ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি
নবম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন লিওনেল মেসি। সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলতে তিনি সময় নিলেন আধা ঘণ্টার মতো। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো চিরচেনা শটে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপালেন তিনি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।
সোমবার রাতে 'জে' গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে গোল করে সবাইকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠে গেলেন মেসি। ফুটবলের মহাযজ্ঞে তার চেয়ে বেশি গোল আর কারও নেই। ২৮ ম্যাচ খেলে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের নামের পাশে এখন ১৭ গোল। ১৬ গোল নিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে এই কীর্তি দখলে রাখা ক্লোসা নেমে গেছেন দুইয়ে।
আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর ম্যাচে মেসি করেছিলেন হ্যাটট্রিক। তিনি বসে গিয়েছিলেন ক্লোসার পাশে। ছন্দে ধরে রেখে ফের জাল খুঁজে নিয়ে ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই মেসি উঠে গেলেন অনন্য উচ্চতায়।
প্রথমার্ধের খেলার শেষদিকে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বাঁ প্রান্ত থেকে ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার কাটব্যাক মাঝপথে দারুণভাবে ডামি করে ছেড়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। ফাঁকায় থাকা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি সুযোগ বুঝে ছুটে গিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নেন জোরাল নিচু শট। তা ঠেকানোর কোনো উপায় জানা ছিল না অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্ল্যাগারের।
ক্লোসাকে টপকে যাওয়ার পাশাপাশি আরও একটি কীর্তি গড়লেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে জাল খুঁজে নিলেন তিনি— যে যাত্রা শুরু হয়েছিল চার বছর আগে কাতারের মাটিতে। বাকি দুজন হলেন ফ্রান্সের জুস্ত ফোঁতেন (১৯৫৮ আসর) ও ব্রাজিলের জাইরজিনিয়ো (১৯৭০ আসর)। তারা এই স্বাদ পেয়েছিলেন একই আসরে।
এর আগে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ডি-বক্সে লাউতারো মার্তিনেজকে দুই পাশ থেকে ট্যাকল করেন জেভার শ্ল্যাগার ও স্তেফান পশ। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের তোলা ফাউলের আবেদন শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও পরে ভিএআরে আসে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। কিন্তু স্পট-কিকে হতাশ করে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন মেসি। যদিও গোলের উল্লাস করতে বেশি সময় লাগেনি তার।