মাঠেই উত্তর দেওয়ার প্রত্যয় ইরানের

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের মাঠে নামার আগে ইরান জাতীয় দলকে শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই লড়তে হচ্ছে না, লড়তে হচ্ছে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গেও। ভিসা জটিলতা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশের ভেতরের অস্থিরতা বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে এসব কিছুর মাঝেও ইরানের অভিজ্ঞ উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশ বলছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের উত্তর হবে ফুটবলের ভাষায়।

মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাহানবাখশ স্বীকার করেছেন যে দেশের পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সই তাদের সবচেয়ে বড় বক্তব্য হবে জানিয়ে আরও বলেছেন, 'অবশ্যই দেশের পরিস্থিতি কোনো না কোনোভাবে দলকে প্রভাবিত করে। কিন্তু আমরা আমাদের পা দিয়ে কথা বলি, আর সেটাই সবাই জানে।

ইরানের মানুষের জন্য কিছু আনন্দের মুহূর্ত এনে দেওয়ার লক্ষ্যও ব্যক্ত করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার, 'আমরা এমন কিছু করতে চাই, যাতে গত কয়েক বছরে কঠিন সময় পার করা আমাদের দেশের মানুষদের মুখে একটু হলেও হাসি ফোটে।'

জাহানবাখশের জন্য এটি হতে যাচ্ছে চতুর্থ বিশ্বকাপ। অনেকের ধারণা, জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই এই আসরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তার বিশ্বাস, বর্তমান ইরান দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কোচ আমির গালেনোয়ির দলে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ফুটবলার প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে খেলছেন। আর সেই অভিজ্ঞতাই দলকে বাইরের চাপ মোকাবিলায় সাহায্য করছে।

বিশ্ব ফুটবলে ইরান বরাবরই এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সাফল্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি। আগের ছয়টি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

তবে এবার দলে আছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি, আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোহাম্মদ মোহেবি এবং সামান ঘোদ্দোসর মতো খেলোয়াড়। তাই জাহানবাখশ বিশ্বাস করেন, এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইরানকে খেলতে হবে বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে। কঠিন এই গ্রুপ থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। তবে জাহানবাখশের কাছে বিশ্বকাপের লক্ষ্য শুধু নকআউট পর্বে ওঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

উত্তর ইরানের এক ছোট শহর থেকে উঠে এসে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করা এই ফুটবলারের কাছে জাতীয় দলের জার্সি মানে দেশের মানুষকে একসূত্রে বাঁধার একটি সুযোগ। তার ভাষায়, 'ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে আমরা দেখাতে চাই যে ফুটবল মানুষকে এক করে। ফুটবল পুরো বিশ্বকে একত্রিত করতে পারে।'

এরপর আরও আবেগঘন বার্তা দেন ইরানি অধিনায়ক, 'জাতি, গায়ের রং কিংবা পটভূমি কোনো বিষয় নয়। আমরা সবাই মানুষ। মানুষের কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। আমরা আশা করি ফুটবলের মাধ্যমে, আমাদের খেলার মাধ্যমে এবং এই বড় মঞ্চে আমাদের ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাটি বিশ্বকে দিতে পারব।'