বিপন্নতা
কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া: প্রান্তজনের বিদীর্ন-বিষন্নতার চিত্রণ
সে অনেকদিন আগের কথা। কোনো এক নামীদামি আলোকজ্জ্বল কৃষি বিষয়ক সভায় শুনেছিলাম, কৃষি নাকি আর কৃষকের হাতে থাকবে না। আরও অনেকদিন পরে জেনেছিলাম ধানের থেকে বাওকুল লাগালে নাকি লাভ অনেক বেশি। বাবার ধানি জমিতে সন্তান বাওকুল লাগিয়ে বাম্পার ফলন ঘরে তুলেছেন। ধান লাগিয়ে লাভ কি তবে? লাভ তো আছেই। এবার তবে কৃষির দায় বর্তাবে বহুজাতিকের হাতে। প্যাকেটে প্যাকেটে সাদা চাল পৌঁছে যাবে নগরীর আনাচে-কানাচে। অথবা ক্ষুদ্র ঋণের কারবার হবে এ দফায়। ১০ হাজার টাকার ঋণ, শোধ হবে ২৪ সপ্তাহে। হপ্তাপ্রতি ৬০০ টাকা করে। তবু কি শেষ রক্ষা হবে কৃষকের? তবু কি তিনবেলা ভাত জুটবে তার? মনে হয় না। তাই কৃষক হবেন উদ্বাস্তু, শহরমুখী হবে তার যাত্রা। বিশাল শহরে হয়তো রিকশাওয়ালা বা দিনমজুর হওয়ার লড়াইয়ে শামিল হবেন ধানি জমির কৃষক। হবেন কুড়া পক্ষী, শূন্য হবে যাদের শেষ সীমানা।
২১ নভেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন