এবারের নির্বাচন ও গণভোটের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আট দিন আগে নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ও তুলনামূলকভাবে ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসি কার্যালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন জানতে চাইলে মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলব।
তিনি সব রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানান, তারাও যেন একটা সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ইসিকে সহযোগিতা এবং ইসির নেওয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আজ সকাল ১১টায় ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
এ সভা প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আজকের মিটিংয়ে সর্বশেষ আমাদের যে প্রস্তুতি এবং সে প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা অবহিত হলাম।
এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর শীর্ষ নেতারাও পরস্পর-বিরোধী কথা বলছে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্ত বাংলাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তাছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করে, এমন অভিযোগ থাকলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও জুডিকেশন কমিটির কাছে প্রতিকার চাওয়া যাবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এবং যথাযথ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে প্রেরণ করবেন। এরপর কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এর আগে বহু ঘটনায় আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।
যদি কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ বা আইন লঙ্ঘন করেন, তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা যায়। গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও ব্যবস্থা নিতে পারে এবং তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
কোন প্রার্থী যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝায়, তাহলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে তিনি এ-ও বলেন, এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।
ঢাকা-১৭ আসনে এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আচরণবিধি ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কি না জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। প্রমাণ সাপেক্ষে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের ও স্ক্রুটিনির সময় আছে। কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে, এই মুহূর্তে আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।