পোশাক শিল্পের রপ্তানি পুনরুদ্ধারে বাধা হতে পারে দীর্ঘ ছুটি

By রেফায়েত উল্লাহ মীরধা

জুলাই ও আগস্টে উৎপাদন স্থগিত থাকলে দেশের তৈরি পোশাকের চালানগুলো বড় ধরনের হুমকির মধ্যে পড়বে বলে জানিয়েছে রপ্তানিকারকরা। এ কারণ হিসেবে তারা বলছেন, পশ্চিমের বাজারগুলোতে শীত ও ক্রিসমাসের কারণে পণ্যের চাহিদা থাকায় এই সময়টি দেশীয় পোশাক উৎপাদনকারীদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের রপ্তানি পোশাক খাতের ৪০ শতাংশই রপ্তানি হয় জুলাই ও আগস্টে।

চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা হারানোর আশঙ্কার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। কারণ, সরকার ২৩ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ১৪ দিনব্যাপী লকডাউনে কলকারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তৈরি পোশাক শিল্পে ঈদ উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে ১৯ জুলাই থেকে। তবে, যদি কারখানাগুলো ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে এটি তিন সপ্তাহের ছুটিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেড নামে স্থানীয় এক তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুল হক বলেন, ‘এখন নতুন ওয়ার্ক অর্ডার বুক করা এবং আগামী শীত ও ক্রিসমাস মৌসুমের জন্যে পোশাকের চালান পাঠানোর উপযুক্ত সময়। এ সময়ে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত নয়।’

উৎপাদন স্থগিত করার পরিকল্পনাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা কেবল তাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছিল।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের টিকাদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় পশ্চিমের ব্র্যান্ড ও বিক্রেতারা তাদের পোশাকের দোকানগুলো আবারও খুলতে শুরু করেছেন।

পোশাক সরবরাহকারীরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই দীর্ঘ ছুটির কারণে অর্ডারগুলো বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চলে যেতে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ছিল আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। যার পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে, পোশাক বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ মহামারির আগের সময়ের চেয়ে তিন বিলিয়ন ডলার কমে গেছে।

ওভেন পোশাক অর্থবছরের শেষের দিকে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে। আর নিটওয়্যার সারা বছরজুড়েই ভালো করেছে।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল বলেন, ‘আমরা আগামী বছরের জন্যে অনেক কাজের অর্ডার পাওয়ার আশা করছি। কারণ, অসংখ্য ক্রেতা তাদের অর্ডারগুলো অন্য দেশ থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন। দেশ যদি দীর্ঘ ছুটি ও শাটডাউনের দিকে এগোয়, সেক্ষেত্রে আমরা এই অর্ডারগুলো গ্রহণ করতে পারব না। তা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক হবে।’

‘এ ছাড়াও, অনেক কারখানা মালিক আগামী মাসের শুরুতে শ্রমিকদের বেতন দিতে গিয়ে ঝামেলায় পড়বেন, যদি সময়মতো চালানগুলো পাঠাতে না পারেন’, বলেন তিনি।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আজীম জানান, পোশাক নির্মাণ কারখানাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখা হলে এই খাতটি একটি বড় আকারের ক্ষতির মুখোমুখি হবে।

বিজিএমইএর নেতারা আগামীকাল একটি জরুরি বৈঠকে বসে লকডাউন ও তৈরি পোশাক খাতের ওপর এর প্রভাবগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

আজীম বলেন, ‘আমরা চাই লকডাউনের মধ্যেও তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর কার্যক্রম চালু থাকুক।’

তিনি জানান, কর্মীদেরকে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠালে তাদের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা কারখানায় নিরাপদ। কারণ, তারা সব স্বাস্থ্য নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলছেন।’

বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা গত দেড় বছরের লোকসান থেকে মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।’

‘আমরা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করেছি শুধু ভবিষ্যতে লাভের মুখ দেখার আশায়। এখন লাভ করার সময়। কারণ, অনেকেই এত বেশি নতুন অর্ডার পেয়েছেন যে তারা ওভারবুকড অবস্থায় আছেন’, বলেন তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘আমরা আগামী শীতের মৌসুম ও ক্রিসমাসের মূল্যহ্রাসের সময়ে অনেক ব্যবসা করতে পারতাম। যেটি আমরা হারাতে যাচ্ছি। দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন চললে আমরা আগামী গ্রীষ্মের অনেক অর্ডারও হারাব।’

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান