অংশগ্রহণ নয়, শিরোপা জিততে এসেছি: ইমরুলের নেতৃত্বের মূলমন্ত্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইমরুল কায়েস, বাংলাদেশ দলে এখন আর নিয়মিত মুখ নন, ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ নেতৃত্বের দক্ষতা দেখিয়েছেন এবার। ইমরুলের অধিনায়কত্বেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা জয় করে। চলতি মৌসুমে এবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এনে দিয়েছিলেন প্রথম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ডেইলি স্টারের মাজহার উদ্দিন এর সঙ্গে কথা বলেছেন তার নেতৃত্বের দর্শন এবং আরও কিছু বিষয় নিয়ে। নিম্নে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ দেওয়া হলো:

দ্য ডেইলি স্টার (ডিএস): ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতা হিসাবে আপনার সাফল্যের পিছনে কী মন্ত্র রয়েছে?

ইমরুল কায়েস: আমি অতীতে অধিনায়কত্ব করেছি, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, কখনোই বড় মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিপিএলে সুযোগ পাওয়ার পর শিখেছি, টিম বন্ডিং থাকাটা জরুরি। আপনি যদি একটি পরিবার হিসাবে দল তৈরি করতে সক্ষম না হন তবে আপনার দলে যত বড় তারকাই থাকুক না কেন, তারা ইউনিট হিসাবে ক্লিক করবে না। আমরা যখন দল গঠন করেছিলাম, তখন আমাদের দলে অনেক বড় বড় নাম ছিল না। কিন্তু আমার পরিষ্কার বার্তা ছিল: আমরা এখানে কেবল অংশ নিতে আসিনি, আমরা শিরোপা জিততে চাই। প্রাথমিকভাবে, কেউ কেউ হয়তো আমার কথাগুলোকে হালকাভাবে নিয়েছে। কারণ তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ভেবেছিল যে আবাহনীই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে। আমি এই মানসিকতা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি এবং বলেছিলাম, 'যদি তারা এটি করতে পারে তবে আমরা কেন পারব না? আমি প্রতিটি অনুশীলন সেশন এবং মিটিংয়ে এই বিশ্বাস জাগানোর চেষ্টা করেছি এবং দলকে অনুপ্রাণিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রশ্ন: এই মৌসুমে লিগের মান কেমন ছিল?

ইমরুল: আমি যদি আম্পায়ারিং, পিচ এবং কন্ডিশনের কথা বলি, তবে আমাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে এর মান আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় সত্যিই ভালো ছিল। আপনি জানেন, লিগটি আরও বেশি হাইলাইট করা হয় যখন আপনার কাছে জাতীয় খেলোয়াড় থাকে এবং জাতীয় তারকারা এই মৌসুমের বেশিরভাগ সময় খেলেছে। এবং তাদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টটিকে খুব প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

ডিএস: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ডিপিএলে এক মৌসুমে ১০০০ রান করে দারুণ এক মৌসুম অতিবাহিত করেন এনামুল হক। আর কেউ কি আছেন আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন?

ইমরুল: অবশ্যই (এনামুল হক) বিজয় যা করেছে, তা তার কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার। এবং আমরা সবাই তার দক্ষতা সম্পর্কে জানি কারণ সে রান করার জন্য খুব ক্ষুধার্ত ছিল। আমি মনে করি সে সত্যিই দারুণ করেছে এবং তার পারফরম্যান্স অবশ্যই তাকে আগামী দিনগুলোতে আরও এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বিজয় ছাড়াও, জাকির হাসান এবং অমিত হাসান এই মৌসুমে খুব দুর্দান্ত ছিল এবং তারা অবশ্যই নজর কাড়ার মতো খেলোয়াড়।

ডিএস: আপনি ১৪ টি ম্যাচে ৪৬০ এর বেশি রান করেছেন এবং দুটি অর্ধশতরান এবং একটি শতরান রয়েছে। একজন ব্যাটসম্যান হিসাবে, আপনি কি আপনার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট?

ইমরুল: একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি বলব, আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। আমি মনে করি আমি কয়েকবার বড় স্কোর করতে মিস করেছি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি, কারণ আমরা প্রায় প্রতিটি ম্যাচের প্রথম দিকে উইকেট হারিয়েছি এবং চাপের মুখে তিন নম্বরে নেমে আসাটা সহজ ছিল না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছি, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করার চেষ্টা করেছি।

ডিএস: আপনি কি মনে করেন এখনও আপনি জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ রয়েছে?

ইমরুল: যতদিন আমি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলব, আমার লক্ষ্য থাকবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। সব টুর্নামেন্ট বা সিরিজে সাফল্য পাবেন না। তবে অবশ্যই আমার প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। আমি এখন শান্ত থাকার চেষ্টা করি কারণ সম্ভবত আমি অন্য যে কারও চেয়ে জাতীয় দলের আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম এবং আমি এতে অভ্যস্ত।