সব বোর্ডে হবে একই প্রশ্ন, দুবারের বেশি পরীক্ষায় বসার সুযোগ নয়: শিক্ষামন্ত্রী
সরকার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘৫৬ ধরনের প্রশ্ন করা হয়, হোয়াট ইজ দিস?’
আজ শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জিরো পারসেন্ট পাস করলে সেই স্কুল-মাদ্রাসার এমপিও বাতিল করতাম, এবার করব না। কারণ আপনারা হঠাৎ করে আবার সুশিক্ষক হবেন, আবার আমি আগের আইন রাখবো—দুইটা তো একসাথে যায় না। কিন্তু আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এটা যেন না হয়।’
‘রাজশাহী বিভাগ বরাবরই এত ভালো রেজাল্ট করে, একদম ১০০ ছুঁই ছুঁই হয়ে যায়। পারেন তো ১০০ এর উপরেও (নম্বর) দিতে চান আপনারা। যেমন ২০২১ সালে ৯৪ শতাংশ, আবার ২০২৫ সালে ৭৭ শতাংশ—নেমে আসলো। কেন! এত সুন্দর রেজাল্ট নেমে আসে কেন? আবার যদি তুলনা করি অন্য বোর্ডের সঙ্গে, আপনাদেরকে কেউ ছুঁতেও পারে না। কত দিকে প্রতিযোগিতা! বোর্ডে বোর্ডে প্রতিযোগিতা কে বেশি পাস করাবে। মানে লেখাপড়া ছাড়া পাস বেশি করাবে। তা না হলে এই পদ্ধতিতে আসবে কেন! বোর্ডও কম্পিটিশন করে, এই বোর্ড ওই বোর্ডের প্রশ্ন নেবে না। এক বোর্ড আলাদা প্রশ্ন করবে, এটা কি হয়? আমরা বাংলাদেশি ছাত্র, কেন একেক বোর্ডের আলাদা আলাদা প্রশ্ন হবে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা পরিবর্তন করা কেন যায় না? উত্তর হলো যদি হঠাৎ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়! তার মানে এখন আমরা ভাববো, প্রশ্নপত্র আউট হয়ে যায়! সেই জুজুবুড়ির ভয়ে থাকবো? প্রশ্নপত্র আউট হলে সে ডিভাইস থেকে আউট হবে, তা কি আমরা বুঝবো না? প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কে আমরা কি জানি না? তাদেরকেও আইনের আওতায় আমরা আনব। আইন এমনভাবে স্টিপুলেট করব, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য না—আমাদের জন্য। আমাদের বিজি প্রেস বলে তারা আউট করে না, শিক্ষকরা বলেন তারা আউট করেন না, করে কে? ডিজিটাল কারচুপি করলে ধরাও যায়। আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক এবং আমরা আইনও পাস করেছি।’
এ সময় শিক্ষকরাও মত দেন, একটি প্রশ্নে বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
‘একজন একবার ফেল করল, দুইবার ফেল করল, তিনবার ফেল করল—চারবার পর্যন্ত আপনারা পড়ান, রেজিস্ট্রেশন করেন। ফেল স্টুডেন্টের লিগ্যাসি ক্যারি করা কি শিক্ষকদের দায়িত্ব’—প্রশ্ন রেখে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দুইটার বেশি সুযোগ পাবে না।’
তিনি বলেন, এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার মধ্যে বিরতির কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে দুটি বছর নষ্ট হয়ে যায়। প্রচলিত এই পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে।
‘এখন যদি আপনি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা বলেন, এসএসসিতে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষা দেয়, এইচএসসিতে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষা দেয়। ৪০ লাখ বছর জাতির জীবন থেকে নষ্ট হচ্ছে।’
জনসংখ্যা অভিশাপ না, এটা আশীর্বাদ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মানবসম্পদকে অভিশাপ মনে করা যাবে না। এটা অভিশাপ হয় তখনই, যখন এই বাংলাদেশ যারা চালাচ্ছেন, তারা যদি কর্মক্ষম জাতি হিসেবে তাদের তৈরি করতে না পারেন।’
‘আমাদের মাদ্রাসায় অ্যারাবিকের সঙ্গে যদি ঠিক মতো টেকনিক্যাল (এডুকেশন) দিতে পারি, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য পুরোটাই আমরা দখলে নিতে পারি। আমরা যদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম দিতে পারি—কোরিয়ান, জাপানিজ, চাইনিজ, ফ্রান্স ল্যাঙ্গুয়েজ, তারা বসে আছে...আপনি ল্যাঙ্গুয়েজ জানেন, আর ন্যূনতম একটা যোগ্যতা, কারিগরি শিক্ষা থাকলে আপনি সারা দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন,’ যোগ করেন তিনি।
