‘অনেক বড় সুযোগ’ হাতছাড়া করে যন্ত্রণায় পুড়ছে বাংলাদেশ

আগের ম্যাচেই প্রাপ্তির আনন্দে ঝলমল ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির চেহারা। এদিন সংবাদ সম্মেলনে এলেন রাজ্যের অন্ধকার মুখে নিয়ে, চোখ ছিল টলমল। দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা হয়ত ভেতরটা ছারখার করে দিচ্ছিল। পরে মুখেও বলেছেন সেটাই।

মাউন্ট মাঙ্গানুইতে শুক্রবার আরেকটি ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের ক্রিকেটে অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৪০ রানে আটকে ম্যাচ হারতে হয়েছে কেবল ৪ রানে। ম্যাচটি জিততে পারলে মেয়েদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যোগ হতে পারত নতুন এক পালক।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার বিমর্ষ চেহারার জানালেন, অনেক বড় এক সুযোগ হারিয়ে ফেলে চরম হতাশ তারা, 'হতাশা তো আসলেই...এসব ম্যাচ… অনেক ক্লোজ একটা ম্যাচ। অনেক বড় সুযোগ ছিল আমাদের আরও দুটি পয়েন্ট নেওয়ার আসলে। আমাদের অনেক বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। এটার জন্য সবার মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত দলকে এত কম রানে আটকানো এবং খুব কাছে গিয়ে হারা।'

১৪১ রান তাড়ায় এদিন ওপেনাররা ভাল শুরু আনতে পারেননি। তবে ফারজানা হক পিংকি আর অধিনায়ক নিগার থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাল অবস্থা থেকে আচমকা পথ হারায় বাংলাদেশ। পর পর উইকেট হারিয়ে ২ উইকেটে ৬০ থেকে ৫ উইকেটে ৬০ রানে পরিণত হয়। অধিনায়ক নিগার ২৫ করে ফেরেন। এক পর্যায়ে ৮৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত হারের পথই ছিল প্রশস্ত। ওই পরিস্থিতি থেকে দলকে টানেন নাহিদা। প্রথমে সালমা খাতুন তাকে দেন সঙ্গ। পরে টেল এন্ডারদের নিয়ে খেলা নেন শেষ ওভারে। তিনি ২৫ রানে অপরাজিত থেকে গেলেও বাকিরা সবাই আউট হয়ে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের ক্যাম্প। 

অধিনায়ক নিগার নাহিদার আক্ষেপ বাড়ানো ইনিংসের কথা উল্লেখ করে দায় নিলেন নিজের উপর,  'শেষ পর্যন্ত নাহিদা অনেক লড়াই করেছে। আরেকজন ব্যাটার সাপোর্ট করলে হয়ে যেত। আমি যদি শেষ পর্যন্ত থাকতাম। একটা জুটির চেষ্টা করেছিলাম, ইনিংস বানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোন কারনে আমার ওই জায়গায় আমার আউট ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে।'

লক্ষ্য নাগালে থাকায় অনায়াসে জেতার কথাও ভেবেছিল নিগার। তার মতে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ৬০ রানের পর নামা বিপর্যয়, 'তা তো অবশ্যই (৬০ রানে পর পর উইকেট হারানো টার্নিং পয়েন্ট)। পর পর উইকেট পড়লেই চাপ বেড়ে যায়। এটাই আমাদের ভুগিয়েছে। ওই জায়গায় আর ১০-১৫ রানের যদি জুটি করতে পারতাম বা উইকেট না পড়ত। টপ অর্ডারে ব্যাটাররা যদি আর ৫টা করে রান বেশি করত হয়তবা ম্যাচ এতটা ক্লোজই হতো না। এর আগেই রেজাল্ট পেয়ে যেতাম।'

২২ মার্চ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরের প্রতিপক্ষ আরেক শক্তিশালী দল ভারত।