অসম্ভবকে সম্ভব করাই যেন তেওয়াতিয়ার কাজ!
২০২০ সালের আসরে শারজাহর মাঠে অবিশ্বাস্য এক কৃতি গড়েছিলেন রাহুল তেওয়াতিয়া। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল পাঞ্জাব। তিনি অবশ্য ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসে। এক ওভারে ৫ ছক্কা মেরে ১৮ বলে ৫৩ রানের কঠিন সমীকরণ সহজ করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই তেওয়াতিয়া আবারও পাঞ্জাবকে পেয়ে করলেন অবিশ্বাস্য কাণ্ড। এবার গুজরাট লায়ন্সের ম্যাচ জিততে শেষ দুই বলে দরকার ছিল দুই ছয়। তেওয়াতিয়া সেটা মেলালেন তার স্টাইলে।
শুক্রবার রাতে ভারতীয় এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার যেন জানান দিলেন, অসম্ভবকে সম্ভব করাই তার কাজ।
পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে ১৯ রান দরকার ছিল গুজরাটের। প্রথম বল ওয়াইড হওয়ার পরের বলে রান আউটে কাটা ঝড় তুলতে থাকা অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। স্ট্রাইক পেয়ে তৃতীয় বলে একটি চার মারেন ডেভিড মিলার। চতুর্থ বলে মিসটাইমিং হয়। ওভার থ্রো করে বসেন ক্যারিবিয়ান বোলার ওডেন স্মিথ। তা থেকে স্ট্রাইক পেয়ে যান তেওয়াতিয়া।
স্মিথের পঞ্চম বলটি স্লটে পেয়ে তেওয়াতিয়া উড়ান মিড উইকেট দিয়ে। শেষ বলটি ছিল ওয়াইড লাইনের। একটি সরে গিয়ে কাওকর্নার দিয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন তিনি।
মুম্বাইর ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে তখন মাটিতে বসে পড়েছেন স্মিথ, অবিশ্বাস পাঞ্জাব কাপ্তান মায়াঙ্ক আগারওয়ালের চোখেমুখে।
এমন ম্যাচ জিতে আসার পর তেওয়াতিয়া জানালেন, তার মাথায় চিন্তাটা ছিল অতি সহজ, কোন রকম দ্বিধা না করে সেটা বাস্তবয়ন করেছেন কেবল, 'ম্যাচ জিততে পারা দারুণ অনুভূতি। শেষ ওভারে বেশ কিছু চিন্তার জায়গায় ছিল না, আমি আর ডেভিড (মিলার) কেবল ছক্কা পেটাতে চেয়েছি। আমি জানি (শেষ ছক্কাটা) মাঝ ব্যাটে লাগাত একদম গ্যালারির কাছে গিয়েছে। আমি আগে থেকে ভেবেই এরকম মেরেছি। মনে হয়েছিল সে (ওডেন স্মিথ) অফ স্টাম্পের বাইরে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে বল দেবে। আগে থেকে ভেবে নিয়েছি এবং প্রয়োগটাও ভাল হয়েছে। ড্রেসিং রুমের উম্মাদ অবস্থা।'
'আশু ভাই (অশিষ নেহরা), গ্যারি কার্স্টেন আর সাপোর্ট স্টাফরা খুব ভাল আজ করছেন। আমরা শুরু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।'
এদিন আগে ব্যাটিং পেয়ে লিয়াম লিভিংস্টোনের ২৮ বলে ৬৪ রানে ১৮৯ রানের পুঁজি পায় পাঞ্জাব। শুভমান গিলের ৫৯ বলে ৯৬ রানের ভিতের পর সেই রান তাড়াও ৩ বলে ১৩ করে সব আলো কেড়ে নিলেন তেওয়াতিয়াই।