আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিল অগ্রাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা
'টাকা জমিয়ে রাখা, এফডিআর করা, এই বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে এসে আঞ্চলিক ক্রিকেটের উন্নয়নে, অ্যাকাডেমির উন্নয়নে আরও বেশি ব্যয় করা উচিত।' তৃতীয় দফায় পরিচালক হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এসে গণমাধ্যমকে এই কথাগুলো বলেন নাঈমুর রহমান দুর্জন। একই সুর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে যাওয়া সিলেট বিভাগের শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের।
সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)'র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ ৩২ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনে লড়বেন ২৩টি পরিচালক পদের জন্য। তাদের বেশিরভাগই আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতিশ্রুতি আবারও পূরণের আশা দেখিয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সিলেট বিভাগ থেকে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আকরাম খান, আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। খুলনা বিভাগের দুটি পদে আছেন-শেখ সোহেল ও কাজী ইনাম আহমেদ। বরিশাল থেকে আলমগির হোসেন আলো এবং রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আনোয়ারুল ইসলাম।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে জালাল ইউনূস ও আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি সরাসরি পরিচালক হচ্ছেন।
আরেক দফায় পরিচালক হতে যাওয়া নাদেল আনুষ্ঠানিকতা সেরে বিসিবি অফিস থেকে বেরিয়েই বলেন, 'এবার মূল অগ্রাধিকার হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিল গঠন। যাতে করে ক্রিকেটের প্রসার সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আমার মনে হয় এই কাজটা এবার হবে।'
একই মত মানিকগঞ্জ জেলা থেকে কাউন্সিলর হয়ে আসা দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক দুর্জয়, 'চট্টগ্রাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে আগে একটা সময় ছিল যখন বোর্ডের সংকীর্ণতা ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল। সেইগুলো কিন্তু এখন নাই। আমরা যদি শুধু মনে করি টাকা জমিয়ে রাখা, এফডিআর করা, এই বিষয়গুলো থেকে বেড়িয়ে এসে আঞ্চলিক ক্রিকেটের উন্নয়নে, অ্যাকাডেমির উন্নয়নে আরও বেশি ব্যয় করা উচিত।'
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে কাউন্সিলর হয়ে বিসিবির পরিচালক হিসেবে আগের দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। তৃতীয় মেয়াদেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তিনি। আকরাম জানান ২-৩ মাসের মধ্যেই আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ইতিবাচক ফল দেখা যাবে, 'আমরা যারা ক্যাটাগরি–১, জেলা ও বিভাগ থেকে এসেছি তারা এ বিষয়ে (আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিল) অনেক এগিয়েছি। কোভিডের জন্য আমরা সেভাবে এগোতে পারিনি। গত সভাতেও এ নিয়ে কথা হয়েছে। আমি নিশ্চিত আগামি ২–৩ মাসের মধ্যে এর ফলাফল পাবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে একাডেমি শুরু হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটা উন্নতমানের একাডেমি আমরা করতে যাচ্ছি।'
বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ একটি পদের জন্য লড়বেন প্রথমবারের মতো লড়বে ন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী।
ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিদের মধ্যে ১২টি পদের জন্য লড়বেন ১৭জন। তারা হলেন-গত দুইবারের বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন (আবাহনী লি.), গাজী গোলাম মুর্তজা (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স), নজিব আহমেদ (শেখ জামাল ধানমন্ডি), মাহবুব উল আনাম (মোহামেডান), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান), ওবেদ রশীদ নিজাম (শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব), সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া (ওল্ড ডিওএইচএস), সালাহ্উদ্দিন চৌধুরী (কাকরাইল বয়েজ ক্লাব), ইসমাইল হায়দার মল্লিক (শেখ জামাল ক্রিকেটার্স)
মো: এনায়েত হোসেন (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), ফাহিম সিনহা (সূর্যতরুণ ক্লাব), ইফতেখার রহমান (ফেয়ার ফাইটার্স), মনজুর কাদের (ঢাকা এসেটস), মোহাম্মদ আব্দুর রহমান (মিরপুর বয়েজ ক্লাব), শওকত আজিজ রাসেল (আম্বার স্পোর্টিং ক্লাব), মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি), মনজুর কাদের (আসিফ শিফা ক্রিকেট একাডেমি)।
লড়াই হবে তিন নম্বর ক্যাটাগরিতেও। যেখানে রয়েছে একটি পদ। বড় চমক দেখিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক ম্যানেজার ও বিকেএসপির কোচ ও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, গেল মেয়াদের বিসিবি পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন।
৬ অক্টোবর বিসিবির বোর্ড কক্ষে হবে এবারের নির্বাচন। ভোট গণনা শেষে ওইদিনই ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।