আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আচমকা বিদায় বলে দিলেন পোলার্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমিত ওভারের অধিনায়ক তিনি। তবে এই দায়িত্ব তো বটেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি গায়েই আর কখনো দেখা যাবে না কাইরন পোলার্ডকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন নিজের বিদায় বার্তা।

বুধবার রাতে ইন্সটাগ্রামে এক ভিডিও পোস্ট করে পোলার্ড জানান বিদায়ের কথা, 'অনেক ভেবে চিনতে আলোচনা করে আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।'

লম্বা সময় ক্যারিবিয়ানদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব বুকে লালন করার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেট বলের অন্যতম সেরা হিটারদের একজন,  'অনেক তরুণের মতো আমারও সেই ১০ বছর বয়স থেকে স্বপ্ন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিনিধিত্ব করা। আমি গর্বিত ১৫ বছর ওয়ানডে  ও টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি।'

'স্পষ্টভাবে মনে আছে ২০০৭ সালে আমার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল শৈশবের  হিরো ব্রায়ান লারার অধীনে। মেরুন রঙের সেই জার্সি পরে খেলা, কিংবদন্তিদের সঙ্গ পাওয়া ছিল বিশাল কিছু। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং যাই করি না কেন খেলাটার প্রতি আমার আত্মার সম্পর্ক।'

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১২৩টি ওয়ানডে ও ১০১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন পোলার্ড। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার  বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে শুরু করেন তিনি। পরের বছর ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামেন টি-টোয়েন্টিতে। সাদা বলের ক্রিকেটেই মজেছিলেন এই বিস্ফোরক ব্যাটার ও কার্যকর মিডিয়াম পেসার। কখনই খেলেননি টেস্ট ম্যাচ। 
১২৩ ওয়ানডেতে ২৬.০১ গড় আর ৯৪.৪১ স্ট্রাইকরেটে ২ হাজার ৭০৬ রান পোলার্ডের। বল হাতে ওয়ানডেতে আছে ৫৫ উইকেট। ১০১ টি-টোয়েন্টিতে ২৫.৩০ গড় ও ১৩৫.১৪ স্ট্রাইকরেটে পোলার্ডের রান ১ হাজার ৫৬৯। এই সংস্করণে ৪২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে ১৩৫টি ও টি-টোয়েন্টি ৯৯টি ছক্কা মেরেছেন এই আগ্রাসী ব্যাটার।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দলে বাদ পড়েছিলেন ড্যারেন সামি ও ডোয়াইব ব্রাভোর সঙ্গে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর খেলেছেন বিরতি দিয়ে দিয়ে। ২০১৯ সালে তাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। তবে ২০২১ সালে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অধীনে চরম ব্যর্থ ছিল ক্যারিবিয়ানরা।

৩৪ পেরুনো পোলার্ড বর্তমানে ব্যস্ত আছেন আইপিএলে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অবশ্য এবার তার পারফরমান্স বেশ মলিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও হয়ত নিজের শেষটা দেখে নিয়েছেন তিনি।