আবারও নাঈমের সেঞ্চুরি, পাল্লা দিয়ে রান করছেন জাকিরও
প্রথম তিন ম্যাচে আউট নার্ভাস নাইন্টিজে। এরপর টানা দুই সেঞ্চুরি। একজন ব্যাটারই জন্য এর চেয়ে স্বপ্নময় সময় আর কী হতে পারে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার জন্য রানের ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন নাঈম ইসলাম। অন্যদিকে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দারুণ ব্যাটিং করছেন তিনি। তিনিও করেছেন দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি। আর দুই ব্যাটারের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য জিতেছেন অভিজ্ঞ নাঈমই।
সোমবার ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ডিএলএস ম্যাথোডে ২৯ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে ২৯৪ রানে অলআউট হয় রূপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান করার পর বৃষ্টি নামলে আর ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি। ফলে বৃষ্টি আইনে হয় নিষ্পত্তি।
লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সূচনাটা ভালো ছিল না। দলীয় ৫ রানেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও আব্বাস মুসা আলভি। এরপর ভারতীয় রিক্রুট চেরাগ জানির সঙ্গে দলের হাল ধরেন নাঈম। ২৩৮ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ধারা বজায় রেখে এদিনও সেঞ্চুরি তুলে নেন নাঈম। খেলেন হার না মানা ১১৪ রানের ইনিংস। ১৩০ বলে৮টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। আগের ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৪ রানের ইনিংস। এর আগের তিনটি ইনিংস ছিল ৯২, ৯৫ ও ৯১ রানের। আসরে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ১২৯ গড়ে করেছেন ৫১৬ রান।
সেঞ্চুরি পান চিরাগ জানিও। ১২২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১০৯ বলে ৮টি চার ও ৯টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি।
এর আগে তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া জাকির এদিনও এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরও একটি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দিকে। তবে মাত্র ৯ রানের জন্য আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়ে তাকে। অন্যথায় চার ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরি হতো জাকিরের। এর আগে আবাহনীর বিপক্ষে ১১৭ এবং সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ১২৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ছিল একটি ৬৩ রানের ইনিংসও।
এদিন ৮২টি বল মোকাবেলা করে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৯১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। মিজানুর রহমানের সঙ্গে ৫৫ রানের ওপেনিং জুটি গড়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে অপরাজিথ বাবার সঙ্গে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে নাবিল সামাদের বলে মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান জাকির। আসরে ৪ ম্যাচে ৯৮.৭৫ গড়ে ৩৯৫ রান করেছেন তিনি।
৮৫ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৭২ রান করেন বাবা। এছাড়া ৩৩ রান আসে মিজানুরের ব্যাট থেকে। ১২ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলেন ফরহাদ রেজা। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, নাবিল, শফিউল ও চিরাগ।