আবাহনীকে জেতালেন নাঈম শেখ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের প্রথম ম্যাচেই দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। এদিন তুলে নিতে পারতেন আরও একটি। তবে শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক স্পর্শ করা না হলেও দলকে এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি। সে পুঁজিতে ভর করেই জয়ের ধারায় ফিরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড।

রোববার সাভারের বিকেএসপিতে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ২০ রানে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬১ রান করেন আবাহনী। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪১ রানের বেশি করতে পারেনি খেলাঘর।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বেশ ধীর গতিতেই ব্যাট করতে থাকে আবাহনী। নাঈম শেখ তো কচ্ছপ গতিতে আগাতে থাকেন। প্রথম ৪২ বলে করেন মাত্র ৬ রান। এরপর ধীরে ধীরে খোলস ভাঙতে থাকেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ১১১ রানের জুটি গড়েন নাঈম। আর শেষ দিকে শামিম হোসেন পাটোয়ারি ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি।

শুরুতে মন্থর গতিতে ব্যাট করলেও পরে রানের গতি সচল করে ১১৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম। ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ৮০ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। ৩৯ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪২ রান করেন শামিম। ২টি করে উইকেট পান শেখ মেহেদী হাসান ও সালমান হোসেন ইমন।  

নানা কাণ্ডের এ ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৮ রানেই ভাঙে খেলাঘরে ওপেনিং জুটি। এরপর দলীয় ৩০ রানে অদ্ভুত এক আউটের শিকার হন হাসানুজ্জামান। বল ডিফেন্ড করে রানের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন। ওইদিকে হতাশায় মাথায় হাট দেন বোলার আরাফাত সানি। কিন্তু আম্পায়ার দেন আউট।

এরপর অমিত হাসানকে নিয়ে লড়াইয়ে নামেন অমিত মজুমদার। ১২১ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তারা। তাতে জয়ের ভিত পেয়ে গিয়েছিল খেলাঘর। কিন্তু সেই ভিতে ইমারত গড়তে পারেননি বাকি ব্যাটাররা। এ জুটি ভাঙতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। অথচ শেষ ২০ ওভারে ৮ উইকেট তখন প্রয়োজন ছিল ৯১ রানের।

মূলত তানজিম হাসান সাকিবের তোপে পড়ে খেলাঘর। টানা তিন উইকেট তুলে মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। নবম উইকেটে নিহাদউজ্জামান ও ইফতেখার সাজ্জাদ ৩৭ রানের জুটি না গড়লে হারের ব্যবধানটা হতে পারতো আরও বড়।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন অমিত মজুমদার। ৯০ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। অমিত হাসানের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। ৮২ বলে ৬টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। আবাহনীর হয়ে ৪৪ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান আরাফাত সানি। ৪৮ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন সাকিব।