আবেদন ছাড়াই উইকেট পেলেন সানি
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের খেলা চলছিল তখন। শেষ বলটি ছুঁড়লেন আবাহনী লিমিটেডের বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি। বাম পা এগিয়ে সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ওপেনার হাসানুজ্জামান। এলবিডব্লিউয়ের আবেদন এলো না সানির কাছ থেকে। বরং তার শরীরী ভাষায় হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল আঙুল উঁচিয়ে দিয়ে দিলেন আউটের সিদ্ধান্ত।
রোববার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঘটেছে এই ঘটনা। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া শক্তিশালী আবাহনী নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৬১ রান তুলেছে ৯ উইকেট খুইয়ে। জবাবে তুলনামূলক দুর্বল খেলাঘর এগোচ্ছে স্মরণীয় জয়ের দিকে। এই প্রতিবেদন লেখার সময়, তাদের সংগ্রহ ৩৬ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭০ রান। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের জন্য ৮৪ বলে তাদের চাই আরও ৯২ রান।
নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই যে বল হাসানুজ্জামানের প্যাডে লেগেছে নাকি ব্যাটে। তবে খালি চোখে যা বোঝা গেছে, তাতে বল ব্যাটে লাগার পাল্লাই ভারী। ফাইন লেগের দিকে বল যখন গড়িয়ে যাচ্ছিল, তখন সানি আবেদন না করে তাকিয়ে ছিলেন সেদিকে। উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করা জাকের আলী অনিক শুরুতে একটু উৎসাহ দেখালেও পরের মুহূর্তেই মাথায় হাত দিয়ে দেখতে থাকেন বল কোনদিকে যাচ্ছে। আম্পায়ার মুকুলের আউটের সংকেত দেখানোর আগে জোরালো আবেদন করেছিলেন কেবল স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার।
হাসানুজ্জামান কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! আম্পায়ার আঙুল উঁচু করায় সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ক্রিজের মাঝপথে থেমে যান তিনি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন আম্পায়ার মুকুলের দিকে। এরপর হেলমেটে হাত রেখে ধীরে ধীরে তা নামিয়ে আলতো করে আঘাত করেন নিজের পায়ে। তার শরীরী ভাষায় ফুটে ওঠে হতাশা ও অসন্তোষ।
উল্লেখ্য, ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুকুল ও সৈয়দ মোজাহিদুজ্জামান স্বপন। তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে আছেন হাবিবুর রহমান।