আল-আমিন জুনিয়রের ৬ উইকেট, শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে গেল আবাহনী
মাঠ ভেজা থাকায় দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচ যেন অনেকটা রূপ নিল টি-টোয়েন্টিতে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে তাতে মাত করলেন মাহমুদুল হাসান, ফরহাদ হোসেন, ধ্রুব শৌরেরা। বিশাল রান তাড়ায় মুনিম শাহরিয়ার খেললেন বিস্ফোরক ইনিংস, ঝড়ো ফিফটি এলো নাজমুল হাসান শান্তর ব্যাটে। শেষ দিকে ঝড় তুললেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। কিন্তু আবাহনী আর সমীকরণ মেলাতে পারল না। আবাহনীর একে একে ছয় ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে অফ স্পিন বোলিংয়ে ম্যাচের নায়ক আল-আমিন জুনিয়র।
বিকেএসপির তিন নম্বর গ্রাউন্ডে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে ২৭ রানে হেরে শিরোপা দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ৩৬ ওভারে গাজীর করা ২৭৬ রান টপকাতে গিয়ে তারকার ভরা দলটি থেমেছে ২৪৯ রানে। ২২ রানে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট নিয়ে আবাহনীকে গুটিয়ে দেন আল-আমিন।
এই হারের পর ১২ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট রইল ১৪ তে পড়ে। টেবিলের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডির সঙ্গে ব্যবধান এখন ৮ পয়েন্টের। সুপার লিগে এই নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ হারল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল।
৩৬ ওভারে ২৭৭ রান তাড়া করতে গিয়ে উড়ন্ত সূচনা আনেন মুনিম-শান্ত। মুনিম খেলতে থাকেন টি-টোয়েন্টি মেজাজে। চার-ছয়ে এলোমেলো করে দেন গাজীর বোলিং। একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি সহজেই জেতার পথে আছে আবাহনী। ১৪তম ওভারের শেষ বলে স্লগ সুইপের চেষ্টায় ৩৯ বলে ৬১ করে মুনিম যখন ফেরেন আবাহনীর বোর্ডে ততক্ষণে এসে গেছে ১১০ রান।
এই জায়গা থেকে খেলাটা টানতে পারেননি বাকিরা। সবচেয়ে হতাশ করেন লিটন দাস। আবাহনীর বড় ভরসা ১১ বল খেলে ৭ রান করে ভারতীয় ধ্রুবের বলে ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় নেন।
মাহমুদুল হাসান জয় নেমে করতে পারেন ৪ রান, তাকে ফেরান ধ্রুব। আফিফ হোসেন ৪ রান করে শিকার হন আল-আমিনের। শামীম পাটোয়ারিও ফেরেন ১১ রান। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও ছিলে ব্যর্থ। এই দুজনকেও তুলে নেন আল-আমিন। ওপেন করতে নামা শান্ত ৭০ বলে ৭৬ করে আল-আমিনের বলে স্টাম্পিং হলে আশা ফিকে হতে থাকে আবাহনীর।
যদিও মোসাদ্দেক ছিলেন চেনা ছন্দে। তার ৫০ বলে ৪ ছক্কা, ৫ চারে ৭৩ রানের ইনিংসও থামান আল-আমিন। বাকিটা সময় কেবল ব্যবধানই কমেছে। তানবীর ইসলামকে আউট করে ৬ষ্ঠ উইকেট পান আল-আমিন। খেলা শেষ হয়ে যায় ৯ বল আগে।
বৃষ্টিতে দুপুরে শুরু হওয়া ম্যাচে গাজীকে ব্যাট করতে দিয়ে সুবিধা করতে পারেনি আবাহনী। মাহমুদুলের ৬৭ বলে ৮৮, ফরহাদের ৪৮ বলে ৫৮ ও ধ্রুবের ৪৩ বলে ৫৫ রানে বড় পুঁজি পেয়ে যায় গাজী গ্রুপ। তারায় ভরা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও যা টপকে জেতা হয়নি আবাহনীর।