উমরানের ৫ উইকেট ছাপিয়ে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে নায়ক রশিদ-তেওয়াতিয়া
বিশাল রান তাড়ায় থাকা প্রতিপক্ষকে গতির ঝড়ে কাবু করে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে এসেছিলেন উমরান মালিক। কিন্তু রাহুল তেওয়াতিয়া আর রশিদ খান সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নিলেন। শেষ ওভারে ২২ রানের প্রয়োজন তারা মেটালেন অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে। শেষ দুই বলে দুই ছক্কায় আসর মাত করলেন রশিদ।
বুধবার মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএলে দেখা গেল রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ। যাতে শেষ বলের ফয়সালায় ৫ উইকেটে জিতেছে গুজরাট টাইটান্স। আগে ব্যাট করে ১৯৫ রানের পাহাড় গড়েও হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ল সানরাইজার্স।
দলকে জিতিয়ে তেওতিয়া অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ৪০ রানে, রশিদ ১১ বলেই করেন ৩১ রান। এর আগে ৩৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে পথে রাখেন ঋদ্ধিমান সাহা। ম্যাচ হারলেও সানরাইজার্সের হয়ে উমরান ২৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কেড়েছেন আলো।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ২২ রান দরকার ছিল গুজরাটের। মার্কো ইয়ানসেনের প্রথম বলটি মিড উইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়ান তেওয়াতিয়া। পরের বলে নেন ১ রান। তৃতীয় বলে বোলারের মাথার উপর দিয়ে ছক্কা পাঠান রশিদ। চতুর্থ বল হয় ডট। দুই বলে দরকার ছিল ৯ রান। পঞ্চম বল এক্সটা কাভারের উপর দিয়ে উড়ান রশিদ। শেষ বলে যখন চাই ৩ রান, ২ রান নিলেও ম্যাচ যেত সুপার ওভারে। অমন অবস্থায় ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কায় মাত করেন আফগানিস্তানের তারকা। খরুচে বোলিংয়ের দিনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে তিনি দলকে এনে দেন চোখ ধাঁধানো সাফল্য।
অথচ ১৭তম ওভারে উমরানের জোড়া উইকেটের পর ম্যাচ হেলে গিয়েছিল সানরাইজার্সের দিকেই। ৪ ওভারে দরকার ছিল ৫৬ রান। কিন্তু হিসাব বদলে দেন তেওয়াতিয়া-রশিদ। শেষের ঝড়ের সুনাম বজায় রেখে বাঁহাতি তেওয়াতিয়া ছিলেন তেতে, কব্জির জোর দেখিয়ে এদিনও ঝলক দেখাচ্ছিলেন রশিদ। তবে ক্রমশ কঠিন হচ্ছিল সমীকরণ।
ভুবনেশ্বর কুমারের ১৮তম ওভার থেকে আসে ১২ রান। শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ৩৫ রান। থাঙ্গারাসু নটরাজনকে এক ছক্কা, এক চার মারেন তেওয়াতিয়া। ওভারে আসে ১৩ রান। শেষ ওভারে ২২ রানের ভীষণ কঠিন সমীকরণ পরে মেলান রোমাঞ্চকর ব্যাটিংয়ে।
এর আগে ১৯৬ রান তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু পাইয়ে দেন ঋদ্ধিমান। শুভমান গিল ছিলেন মন্থর। কিন্তু ঋদ্ধিমান সবটা পুষিয়ে দলকে রাখেন পথে। তার ঝড়ে ওভারপ্রতি ১০ রান করে আনতে থাকে গুজরাট। ৬৯ রানের জুটির পর ৮ম ওভারে এই জুটি ভাঙেন উমরান।
তার গতিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন শুভমান। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া এসে দুই চার মারার পর শিকার হন উমরানের। ডেভিড মিলারকে নিয়ে ছুটছিলেন ঋদ্ধিমান। মিলার ডানা মেলার আগেই কাটা পড়েন সেই উমরানের বলে। কাশ্মিরের এই পেসার ৬৮ করা ঋধিমানকেও থামিয়ে দলকে নিয়ে এসেছিলেন দাপুটে জায়গায়। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় পুড়তে হয়েছে তাদের।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে গিয়ে অভিষেক শর্মার ৪২ বলে ৬৫, এইডেন মার্কামের ৪০ বলে ৫৬ ও শেষ দিকে শশাংক সিংয়ের ৬ বলে ২৫ রানে বড় পুঁজি পায় সানরাইজার্স। যা শেষ পর্যন্ত হয়নি যথেষ্ট।