ক্রিস্টিয়ান-অ্যাগারের নৈপুণ্যে প্রথম জয় পেল অস্ট্রেলিয়া
মিরপুরের বাইশগজ যেন আগের তিন ম্যাচের তুলনায়ও কিছুটা মন্থর। সেখানে আগে ব্যাট করে টেনেটুনে একশো রান পার করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের এক ওভারে ড্যান ক্রিস্টিয়ান পাঁচ ছক্কা মারার পরও অবশ্য ম্যাচ জিততে ১৯ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।
শনিবার সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৬ বল আগে শেষ হয়েছে খেলা। ১০৫ রান তাড়া করে ৩ উইকেটের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে সফরকারীরা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে প্রথম তিনটি জিতে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার জয়টি হয়ে থাকছে তাদের জন্য কেবল ব্যবধান কমানোর ম্যাচ ।
১০৫ রানের সহজ লক্ষ্যে নেমে শেখ মেহেদীর চতুর্থ বলেই বিদায় নেন অজি কাপ্তান ম্যাথু ওয়েড। এরপর নিজেদের কৌশল বদলে ড্যান ক্রিস্টিয়ানকে তিন নম্বরে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া।
উদ্দেশ্য পরিষ্কার-স্লগ করা। সেই কাজটা তিনি করেন দারুণভাবে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাকিবকে পাঁচ ছক্কা মেরে দেন তিনি। রান তাড়ায় সমীকরণ একদম সহজ হয়ে যায় তখনই।
আরও পড়ুন- সাকিবের এক ওভারে ক্রিস্টিয়ানের ৫ ছক্কা
কিন্তু নাটকের ছিল অনেক বাকি। মোস্তাফিজুর রহমান এসে ক্রিস্টিয়ানকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর পথ হারায় অজিরা।
মোজেজ হেনরিকস হয়ে যান দুর্ভাগ্যজনক রান আউট। আলেক্স ক্যারি মোস্তাফিজের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে হন এলবিডব্লিউ। অজিদের আশা ভরসার প্রতীক মিচেল মার্শ শেখ মেহেদির বলে ড্রাইভে প্রলুব্ধ হয়ে বোল্ড হয়ে যান। ১৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
এত ভাল অবস্থায় থেকেও এই ম্যাচ হারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ব্যাপারটা হতো চরম বিব্রতকর। দলকে সেই বিব্রতিকর দশা থেকে রক্ষা করেন দুই অ্যাস্টন- অ্যাগার ও টার্নার।
সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে মহা গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ রান। তাতেই বেরিয়ে যায় ম্যাচ। শরিফুল ইসলামের বলে শামীম পাটোয়ারির দারুণ ক্যাচে ধরা পড়ে বিদায় নেওয়ার আগে ২৭ বলে ২৭ করে যান অ্যাগার। মাত্র ৯ রান করলেও টার্নার ক্রিজে থেকে খেলা শেষ করে বেরিয়েছেন।
মোস্তাফিজ এই ম্যাচেও ছিলেন দুর্দান্ত। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৯ রান দিয়ে তুলেছেন ২ উইকেট। কিন্তু ঠিক বিপরীত অবস্থা সাকিবের। ৪ ওভার বল করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার ৫০ রান দিয়ে দেন তিনি। সাকিবের ৪ ওভার থেকেই অজিরা নিয়ে নেয় প্রায় অর্ধেক রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে গিয়ে ডুবিয়েছেন ব্যাটসম্যানরাই। অজি একাদশে আসা লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসনই হয়ে যান বাংলাদেশের বিপদের বড় কারণ। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর নাঈম শেখ আগের তিন ম্যাচের তুলনায় ভালো শুরু এনেছিলেন। ২৪ রানের জুটির পর টানা চতুর্থ ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হন সৌম্য। এবার অবশ্য এক ছক্কা এসেছে তার ব্যাটে।
তিন নেমে সাকিব ছিলেন জড়সড়ো। রান বের করতে ভীষণ ভুগতে হয় তাকে। ব্যাটে বল লাগাতে না পেরে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। নাঈমের সঙ্গে তবু ২৪ রান চলে আসে। হ্যাজেলউডের স্লোয়ারে কাবু হয়ে ২৬ বলে ১৫ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামে সাকিবের অস্বস্তি।
এরপরই আলোটা নিজের দিকে নিয়ে নেন লেগি সোয়েপসন। টানা দুই বল মাহমুদউল্লাহ আর নুরুল হাসান সোহানকে এলবিডব্লিউ করে দেন তিনি। ছয়ে নেমা আফিফ হোসেন ছিলেন বাকিদের তুলনায় সাবলীল। রান বাড়াচ্ছিলেন একাই। কিন্তু থিতু হওয়া আফিফকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রো দেন অ্যাগার। এই ম্যাচেও পারেননি শামীম। এই তরুণ ৬ বলে ৩ রান করে অ্যান্ড্রু টাইয়ের শিকার। তখনো একশো রান করা নিয়েই শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহদী ১৬ বলে ২৩ করলে তিন অঙ্ক পার হয় স্বাগতিকরা। কিন্তু মন্থর উইকেটেও এত কম রান নিয়ে ম্যাচ বের করা ছিল ভীষণ কঠিন। মোস্তাফিজ আপ্রাণ চেষ্টা করেও লাভ হয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৪/৮ (নাঈম ২৮, সৌম্য ৮, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ০, সোহান ০, আফিফ ২১, শামীম ৩, শেখ মেহেদী ২৩, নাসুম ২*, শরিফুল ০ ; টার্নার ০/২২ , হ্যাজেলউড ২/২৪, অ্যাগার ১/২২, টাই ৩/১৮, সোয়েপসন ৩/১২ হেনরিকস ০/৫ )
অস্ট্রেলিয়া: ১৯ ওভারে ১০৫/৭ (ম্যাকড্রেমট ৫, ওয়েড ২ , ক্রিশ্চিয়ান ৩৯, মার্শ , হেনরিকস ৪, ক্যারি ১, টার্নার ৯*, অ্যাগার ২৭, টাই ৪৮ ; শেখ মেহেদী ২/১৭, সাকিব ০/৫০, নাসুম ১/১৭, মোস্তাফিজ ২/৯, শরিফুল ১/৮, মাহমুদউল্লাহ ০/৩)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মিচেল সোয়েপসন।