গাজী গ্রুপ-শেখ জামাল-প্রাইম ব্যাংকের জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। সাভারের বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেটার্স ক্লাবকে ৮৬ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। একই ভেন্যুর অপর মাঠে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৫০ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। মিরপুরে সিটি ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়ে গাজী গ্রুপ।
সিটি ক্লাব-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স
(মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম)
শুক্রবার টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তৌফিক খান তুষারের উইকেট হারায় সিটি। এরপর আরেক ওপেনার শাহরিয়ার কমলকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন মইনুল ইসলাম। এরপরই সিটির শিবিরে তোপ দাগান কাজী অনিক। এ জুটি তো ভেঙেছেনই, এরপর নিয়মিত বিরতিতে তুলে নিয়েছেন আরও পাঁচটি উইকেট। ফলে কোনো মতে ১৯৯ রান করতে পারে দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেন আশিক উল আলম নাঈম। ৮৩ বলে ২টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। নয় নম্বরে নামা রাজিবুল ইসলাম ২১ বলে সমান ২টি করে চার অচ হক্কায় খেলেন হার না মানা ৩১ রানের ইনিংস। মইনুল ২৭ ও কমল ২৬ রান করেন।
গাজী গ্রুপের পক্ষে ৩০ রানের খরচায় একাই ৬টি উইকেট নেন কাজী অনিক। এছাড়া আশিকুর জামান পান দুটি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় মেহেদী মারুফের ব্যাটে জয় পায় গাজী গ্রুপ। ২৭ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ফরহাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন মারুফ। এরপর ১ রানের ব্যবধানে দুটি উইকেট হারালে চতুর্থ উইকেটে মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে ৫০ রানের আরও জুটি গড়েন মারুফ। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
এরপর মারুফ আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে বাকি কাজ শেষ করেন আকবর আলী ও জোহাইব খান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯০ রানের ইনিংস খেলেন মারুফ। ১১৩ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। আকবর ২৭ ও ফরহাদ ২৫ রান করেন। সিটি ক্লাবের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন আব্দুল হালিম।
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
(বিকেএসপি ৩ নম্বর মাঠ)
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা শেখ জামালের শুরুটা ভালো ছিল না। দলীয় ৬ রানেই ওপেনার সৈকত আলীকে হারায় দলটি। এরপর তিন নম্বরে নেমে আরেক ওপেনার সাইফ হাসানের সঙ্গে ১৬৫ রানের জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস। সাইফ আউট হতে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে ৭৯ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন তিনি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের একাদশ সেঞ্চুরি করে ১২২ রানের ইনিংস খেলেন ইমরুল। ১৩৯ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ৭৯ বলে সমান ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন সাঈফ। ৬৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৬৪ রান করেন সোহান।
জবাবে দলীয় ১০ রানেই দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রূপগঞ্জ। এরপর তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়েন নাঈম। এরপর তামিম বিদায় নিলে চারিগ জানিকে নিয়ে ১২৯ রানের আরও একটি জুটি গড়েন নাঈম। তবে জুটি ভাঙলে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে তারা। ফলে ২৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম ইসলাম। ১১১ বলে ৯টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৭০ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন জানি। ৫৫ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৯ রান করেন তামিম। শেখ জামালের হয়ে ৪৭ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট নেন সানজামুল ইসলাম।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব-রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব
(বিকেএসপি ৪ নম্বর মাঠ)
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা দলটির গোড়াপত্তনে নেমে খালি হাতে ফিরে যান শাহাদাত দিপু। এরপর ভারতীয় রিক্রুট আভিমান্যু ইয়াশবরনের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন বিজয়। এরপর আভিমান্যু আউট হলে নাসিরকে নিয়ে দলে হাল ধরেন তিনি। গড়েন ১৯৬ রানের দারুণ এক জুটি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় দলটি। ৩২৪ রানের বিশাল সংগ্রহ করে দলটি।
বিজয় ও নাসির দুই জনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে বিজয় এদিন খেলেছেন ১২৭ রানের ইনিংস। ১২৫ বলের ইনিংসটি সাজান সমান ৮টি করে চার ও ছক্কায়। চার নম্বরে নাসির খেলেন অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস। ১০৩ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে এটা তার অষ্টম সেঞ্চুরি।
রূপগঞ্জ টাইগার্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফরহাদ রেজা ও শফিকুল ইসলাম।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে মিজানুর রহমানকে হারালেও জাকির হাসান ও অপরাজিথ বাবার ব্যাটে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল রূপগঞ্জ টাইগার্স। ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপর জাকির আউট হলে ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে নিয়ে ৬০ রানের আরও একটি জুটি গড়েন বাবা। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দলটি ব্যাটিং লাইন আপ। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ৫৮ রান যোগ করতেই শেষ ৮ উইকেট হারায় দলটি। ২২৮ রানে থামে তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন বাবা। ৫৯ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন এ ভারতীয়। ৫৯ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন জাকির। রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৪৪ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন রাকিবুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম ও অলক কাপালী।