শেষ বলের রোমাঞ্চে জিতল সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬ রানের। উইকেট তিনটি। কাজটা খুব কঠিন না হলেও প্রথম চার বলে তিন রান দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন আবু হায়দার রনি। পঞ্চম বলে কোনো রান নিতে পারেননি সিটি ক্লাবের আমিনুর রহমান। মূলত বোলার হিসেবেই স্বীকৃত তিনি। শেষ বলে জিততে তিন রান প্রয়োজন ছিল দলটির। তবে লংঅফের উপর দিয়ে চার মেরেই জয় নিশ্চিত করেন এ তরুণ।

শনিবার সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭০ রান করে ব্রাদার্স। লক্ষ্য তাড়ায় জয় তুলে নিতে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয় সিটি ক্লাবকে।

অথচ অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে আগের ম্যাচেই দারুণ এক জয় পেয়েছিল ব্রাদার্স। সেই আশরাফুল এদিন উল্টো দলকে বিপদে ফেলেছেন। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৮ বলে ২৬ রান করার পর যখন দলের রানের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই ফিরে গেছেন অধিনায়ক। অথচ আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্না ৪৫ বলে তুলেছেন ৩৮ রান।

তবে ব্রাদার্সের রানের গতিটা বাড়ান সোহাগ গাজী। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৭ বলে খেলেন ৪৮ রানের ক্যামিও। ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। দারুণ অবদান রয়েছে ধীমান ঘোষ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবেরও। ৮৪ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করেন ধীমান। ৫৪ বলে ৪০ রান করেন আমিনুল।

সিটি ক্লাবের হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন উসমান খালিদ ও শাহরিয়ার আলম মাহিম।

লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার তৌফিক খান তুষার ও শাহরিয়ার কমলের ব্যাটে ৫৬ রানের ওপেনিং জুটি পায় সিটি। এরপর তৌফিক আউট হলে জাকিরুল আহমেদ জেমের সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ে আউট হন কমল। এ জুটি ভাঙতে ১০ রানের ব্যবধানে ৩টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। এরপর আশিক উল লোম নাঈমের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়ে আউট হন মইনুল ইসলাম সোহেল।

১৪৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দলটির হাল ধরেন জাওয়াদ। সঙ্গী হিসেবে পান নাজমুল হোসেন মিলনকে। ৮৩ রানের দারুণ এক জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় দলটি। এরপর মিলন আউট হলে এক প্রান্ত আগলে রেখে সতীর্থদের নিয়ে ছোট ছোট জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকেন জাওয়াদ। শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন জাওয়াদ। ৬৬ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন মিলন। এছাড়া তৌফিক ৩৩, কমল ২৬ ও নাঈম ২৭ রান করেন। ব্রাদার্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট পান মানিক খান ও সোহাগ গাজী।