ডাচদের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশকে টপকে শীর্ষে ইংল্যান্ড
তিন ফিফটির পরও ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্যটা খুব বেশি দাঁড় করাতে পারেন নেদারল্যান্ডস। ২৪৫ রানের সাদামাটা লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল দলটি। তবে ওপেনার জেসন রয়ের ঝড়ো সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক জস বাটলারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সে লক্ষ্য হয়ে গেল মামুলী। সহজ জয়ে ডাচদের হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল ইংলিশরা।
বুধবার আমসটেলভেনের ভিআরএ গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় ডাচরা। জবাবে ১১৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় ইংলিশরা।
এ জয়ে বাংলাদেশকে টপকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে এলো ইংল্যান্ড। সিরিজের আগে বাংলাদেশের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল দলটি। তিন ম্যাচ জিতে ৩০ পয়েন্ট পাওয়ায় এগিয়ে গেল তারা। বর্তমানে তাদের সংগ্রহ ১২৫ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১২০।
লক্ষ্য তাড়ায় ফিল সল্টকে নিয়ে ইংলিশদের দারুণ সূচনা এনে দেন জেসন রয়। ওপেনিং জুটিতে ৮৫ রান করেন তারা। এ জুটি ভাঙেন পল ভ্যান মিকেরেন। সে ওভারে ডেভিড মালানকে খালি হাতে ফিরিয়ে দারুণভাবে দলকে ম্যাচে ফেরান এ ডানহাতি পেসার। তবে এরপর অধিনায়ক জেসন বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে ডাচদের হতাশা বাড়ান জেসন রয়। অবিচ্ছিন্ন ১৬৩ রানের জুটিতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা।
দলের পক্ষে দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে ১০১ রানের অপরাজিত থাকেন জেসন। ৮৬ বলে ১৫টি চারের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান এ ওপেনার। বাটলার অপরাজিত থাকেন ৮৬ রানে। শুরুতে কিছুটা দেখে ব্যাট করলেও পরে আগ্রাসী ব্যাট চালাতে থাকেন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। সল্টের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ রান।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫৯ রানের খরচায় ২টি উইকেট পান ভ্যান মিকেরেন।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৯ রানেই ওপেনার বিক্রমজিত সিংকে হারায় নেদারল্যান্ডস। এরপর টম কুপারকে দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার ম্যাক্স ও'ডউড। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। এরপর চতুর্থ উইকেটে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন বাস ডি লিডে ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। স্কোরবোর্ডে ৮৪ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।
কিন্তু এ জুটি ভাঙলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ডাচরা। ফলে গড়ে ওঠেনি আর কোনো জুটি। নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটারও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ফলে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান তুললে সাদামাটা স্কোর নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক এডওয়ার্ডস। ৭২ বলে ২টি চারের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ডি লিডের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান। ৭৮ বলে ৩টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ও'ডউড খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। ৬৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে এ রান করেন এ ওপেনার। এছাড়া কুপার করেন ৩৩ রান।
ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩৬ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান ডেভিড উইলি। ব্রায়ডন কার্স ৪৯ রানের বিনিময়ে নেন ২টি উইকেট।