টানা দ্বিতীয় হার মোস্তাফিজের দিল্লির

স্পোর্টস ডেস্ক

শুরুতে বল হাতে রান দেওয়ায় বেশ কৃপণ ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম তিন ওভারে রান দেন কেবল ১২। তবে অন্য প্রান্তে চাপ ধরে রাখতে পারেননি সতীর্থরা। এক প্রান্তে ঝড় তুলে জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যান কুইন্টন ডি কক। এরপর বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। ফলে টানা দ্বিতীয় হার মানতে হয় মোস্তাফিজের দল দিল্লি ক্যাপিটালসকে।

মুম্বাইয়ের ডক্টর ডিওয়াই প্যাটেল স্পোর্টস একাডেমিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪৯ রান করে দিল্লি। জবাবে ২ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে লখনউ।

বল হাতে দিল্লির ইনিংসের সূচনাটা করেন মোস্তাফিজই। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ওভারে খরচ করেন ৫ রান। এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফের বল হাতে নেন তিনি। সে ওভারে রান দেন মাত্র ৩টি। তবে মোস্তাফিজ কিপটে বোলিং করলেও অপর প্রান্তে রান দেওয়ায় উদারতা দেখান অপর বোলাররা। তাতে পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৮ রান তোলে লখনউ।

তবে পাওয়ার প্লে শেষে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন লালিত যাদব ও কুলদিপ যাদব। দলীয় ৭৩ রানে ব্রেক থ্রু এনে দেন লালিত। ব্যক্তিগত ২৪ রানে অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে ফেরান তিনি। স্কোরবোর্ডে আর ১৩ রান যোগ হতে আঘাত হানেন লালিতও। ফেরান এভিন লুইসকে।

তবে এক প্রান্তে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন কুইন্টন ডি কক। একাই ৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে কুলদিপের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন এ প্রোটিয়া তারকা। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় লখনউ। এরপর ১৭তম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজ। সে ওভারে ৪ রান দিয়ে আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন। তবে ১৯তম ওভারে কিছুটা খরুচে বোলিং করেন তিনি। তাতেই আশা শেষ হয়ে যায় দলটির।

মোস্তাফিজের প্রথম দুই বল থেকে দুটি সিঙ্গেল আসলেও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান ক্রুনাল পান্ডিয়া। মোস্তাফিজের চার ওভারে এই একটি বাউন্ডারিই আসে। তবে এরপর পরের তিন বল থেকে দুই রান করে ছয় রান নেন ক্রুনাল। শেষ পর্যন্ত ১ রান দেন ১৪টি। সবমিলিয়ে চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন এ পেসার। 

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পৃথ্বী শয়ের ব্যাটে চড়ে ভালো সূচনা পায় দিল্লি। অজি ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের অঙ্গে ৬৭ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন, যার মধ্যে ৬১ রানই আসে পৃথ্বীর ব্যাট থেকে। এ জুটি ভাঙতে ৭ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনার সহ রভমান পাওয়েলকেও হারায় দলটি। এরপর চতুর্থ উইকেটে সরফরাজ খানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক রিশাভ পান্ত। গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি মিলে দলটির।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রানের ইনিংস খেলেন পৃথ্বী। ৩৪ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এ ওপেনার। অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক পান্ত। ৩৬ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ২৮ বলে ৩টি চারের সাহায্যে সরফরাজ করেন অপরাজিত ৩৬ রান। লখনউর পক্ষে ২২ রানের খরচায় ২টি উইকেট রভি বিশ্নই।