তৃতীয় আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল, ক্ষোভ ঝাড়লেন পান্ত
আইপিএলের ম্যাচে ২২২ রান তাড়ায় শেষ ওভারে জয়ের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের দরকার ছিল ৩৬ রান। কঠিন সেই সমীকরণও মিলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন রভম্যান পাওয়েল। রাজস্থান রয়্যালসের ওবেড ম্যাককয়ের প্রথম তিন বলেই তিনি হাঁকিয়েছিলেন টানা তিন ছক্কা। তবে তৃতীয় বলটি নিয়ে তৈরি হয় চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি। দিল্লির দাবি ছিল, ম্যাককয়ের ফুল টস ডেলিভারিটা কোমরের চেয়ে বেশি উচ্চতায় ছিল। মাঠের আম্পায়ারদের অবশ্য সেরকম কিছু মনে হয়নি।
নো বল না ডাকায় দিল্লির ডাগ আউটে দেখা দেয় তীব্র অসন্তোষ। দলটির অধিনায়ক রিশভ পান্ত, ডেভিড ওয়ার্নার ও কোচিং স্টাফদের অনেকে মাঠের বাইরে থেকেই জানান প্রতিবাদ। তারা ডেলিভারিটি আরেকবার দেখার জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যাওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু দুই আম্পায়ার নিতিন মেনন ও নিখিল পটবর্ধন সেটা মানতে রাজী ছিলেন না। টেলিভিশন রিপ্লেতেও দেখা যায়, ব্যাটে লাগার সময় বলটির উচ্চতা ছিল পাওয়েলের কোমরের সামান্য উঁচুতে। এতে দিল্লি শিবিরে ক্ষোভের পারদ চড়া হয় আরও।
এক পর্যায়ে, পাওয়েল ও কুলদীপকে মাঠ ছেড়ে উঠে আসতে বলেন পান্ত। কিন্তু তাদেরকে আটকে দেন আম্পায়াররা। দুই ব্যাটারকে বোঝানো হয় যে এভাবে মাঠ ছাড়ার বিধান নেই। আর নিয়ম অনুসারে, আউটের ব্যাপার না থাকলে নো বলের সিদ্ধান্ত দিতে তৃতীয় আম্পায়ারের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজনও নেই। তখন ঘটে আরেক অদ্ভুত কাণ্ড। দিল্লির সহকারী কোচদের অন্যতম প্রভিন আমরেকে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন পান্ত। আমরে মাঠে ঢুকে তর্কে জড়িয়ে পড়েন মেনন ও পটবর্ধনের সঙ্গে।
শেষ পর্যন্ত, ক্রিজে থেকে যান পাওয়েল ও কুলদীপ। কিন্তু একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় কালক্ষেপণ হওয়ায় মনঃসংযোগ নড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা পাওয়েলের। বাকি থাকা তিন বলে মাত্র ২ রান আনতে পারেন তিনি। ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে তিনি হয়ে যান আউট। ফলে শুক্রবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বর্তমান দল দিল্লির বিপক্ষে ১৫ রানের জয় তুলে নেয় তার সাবেক দল রাজস্থান।
ম্যাচের ফল ছাপিয়ে শেষ ওভারের ওই নো বল বিতর্কই তৈরি করেছে আলোচনার খোরাক। আত্মপক্ষ সমর্থন করে দিল্লির অধিনায়ক পান্ত পরে বলেছেন, তৃতীয় আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ করার দরকার ছিল, 'ম্যাচের শেষ ওভারে পাওয়েল আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছিল। নো বল হলে সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতো। আমার মনে হয়েছিল, বলটা আর একবার দেখা উচিত। কিন্তু সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এটা অত্যন্ত হতাশার। কিন্তু আমি আর কী করতে পারতাম। আমাদের সকলেই খুব হতাশ হয়েছে। নো বল হলেই পারত। আমাদের মনে হয়, তৃতীয় আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। কারণ ওটা নো বলই ছিল। কিন্ত আমি নিয়ম বদল করতে পারি না।'
সহকারী কোচ আমরেকে মাঠে পাঠানো অবশ্য ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন তিনি, 'অবশ্যই সেটা ঠিক হয়নি। কিন্তু তার আগে যা হয়েছে, সেগুলোও ঠিক ছিল না। (আমরেকে মাঠে পাঠানো) মুহূর্তের উত্তেজনায় সেটা হয়ে গেছে। তখন আসলে এসব ভাবার মতো অবস্থা ছিল না। এখানে দোষটা দুই পক্ষেরই, শুধু আমাদের নয়। কারণ, টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা বেশ ভালো আম্পায়ারিং দেখেছি। আমরাও আজ আরও অনেক ভালো করতে পারতাম।'