ধোনির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতল চেন্নাই
সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন, তিনি বুড়িয়ে গেছেন। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে বাড়ছিল নৈরাশ্য। তবে এখনো যে ফিনিশিং জাদু দেখাতে পারেন সেই প্রমাণই যেন ধোনি দিলেন আবার। অবিশ্বাস্য ফিনিশিংয়ে অনেকদিন পর আলো কেড়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক।
বৃহস্পতিবার ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে টানা সপ্তম হারের স্বাদ দিয়ে শেষ বলে চেন্নাই সুপার কিংস জিতেছে ৩ উইকেটে। দলকে জিতিয়ে ১৩ বলে ২৮ করে অপরাজিত থাকেন ধোনি। আগে ব্যাট করে মুম্বাই করেছিল ১৫৫ রান, ধোনির বিস্ফোরণে শেষ বলে তা পেরিয়ে যায় চেন্নাই।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৭ রান। প্রথম বলেই আউট হয়ে যান থিতু থাকা ব্যাটসম্যান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, পরের বলে ডোয়াইন ব্রাভো এক রান দিয়ে স্ট্রাইক দেন ধোনিকে। ৪ বলে ১৬ রানের কঠিন সমীকরণ এরপর ধোনি মেলান তার ট্রেডমার্ক ঢঙে।
তৃতীয় বলে সোজা মারা ছক্কায় জয়দেব উদানকাটকে হতাশ করেন, পরের বল ফাইন লেগ দিয়ে করেন সীমানা ছাড়া। পঞ্চম বল মিড উইকেটে ঠেলে তীব্র গতিতে দৌড়ে দুই রান নেন। শেষ বলে বাউন্ডারির প্রয়োজন মেটান ফাইন লেগ দিয়ে।
১৫৬ রান তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই রতুরাজ গায়কোয়াড়কে হারায় চেন্নাই। অজি পেসার ড্যানিয়েল স্যামস তৃতীয় পেসারে তুলে নেন মিচেল স্যান্টনারকেও। রবিন উথাপা-আম্বাতি রাইডুর জুটি জমে গিয়েছিল। জুটিতে ৫০ আসার পর ২৫ বলে ৩০ করা উথাপা বিদায় নেন উদানকাটের বলে।
শিভম দুবে ক্রিজে এসে ধুঁকছিলেন। তার ভোগান্তি কমান স্যামস। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচে তাকে ফেরান ইশান কিশান। রাইডু ম্যাচ ধরে রেখেছিলেন। ৩৫ বলে ৪০ করে তিনি ফিরে গেলে সমীকরণ হতে থাকে কঠিন।
অধিনায়ক রবীন্দ্র জাদেজা নেমে ৮ বল খুইয়ে ৩ রান করে ক্যাচ উঠিয়ে ফিরে গেলে বিপদ বেড়ে যায় চেন্নাইর। প্রোটিয়া অলরাউন্ডার প্রিটোরিয়াস উনাদকাটকে মেরে সম্ভাবনা রাখছিলেন বাঁচিয়ে।
কিন্তু জাসপ্রিট বুমহারর ওভারে খুব একটা সুবিধা করা যাচ্ছিল না। ১৯তম ওভারে ২ চারে বুমরাহর ওভার থেকে ১১ আনলেও শেষ ওভারে থেকে যায় ১৭ রানের হিসাব। ধোনির ঝলকে মিলিয়েছে চেন্নাই।
টস জিতে মুম্বাইকে ব্যাট করতে দিয়ে দ্বিতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে তুলে নেন মুকেশ চৌধুরী। এই বাঁহাতি পেসার ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করে দেন ইশানকেও। ২ রানে ২ উইকেট হারানো মুম্বাই পরের ওভারেই হারাতে পারত সূর্যকুমার যাদবকে।
স্যান্টনারের বলে সহজ স্টাম্পিং হাতছাড়া করেন অভিজ্ঞ ধোনি। খানিক পর অধিনায়ক জাদেজা ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হয়েও জাদেজা পরে আরও একটি ক্যাচ ছাড়েন।
স্লিপে ক্যাচ ফসকে যায় ব্রাভোর হাত থেকে। দুবেও ছাড়েন আরেক ক্যাচ। এতগুলো সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ফলে বিপদে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় মুম্বাই। শেষ পর্যন্ত টিকে তিলক বর্মার ৪৩ বলে ৫১ রানে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় তারা।
তবে ধোনির সেরা দিনে আরও এক ম্যাচ হারের হতাশায় মাঠ ছাড়তে হলো রোহিতদের। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে দ্বিতীয় জয় নিয়ে কোয়ালিফায়ারের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল চেন্নাই।