নবম উইকেট জুটিতে অল্পের জন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছাড়া

স্পোর্টস ডেস্ক

নয় বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় মাহমুদউল্লাহ ও আবুল হাসান রাজু মিলে নবম উইকেটে যোগ করেছিলেন ১৮৪ রান। টেস্টে এতদিন সেটাই ছিল এই উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই কীর্তি ছাপিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথেই ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিন আহমেদ। কিন্তু অল্পের জন্য হাতছাড়া হলো সুবর্ণ সুযোগটি।

বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাসকিনের আউটে বাংলাদেশের নবম উইকেট জুটি থামে ১৯১ রানে। এই উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ও প্যাট সিমকক্স মিলে নবম উইকেটে ১৯৫ রান যোগ করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। অর্থাৎ বিশ্বরেকর্ড থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থামে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের ২৭৬ বলের জুটি।

তবে একটি জায়গায় ঠিকই চূড়ায় উঠে গেছে মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিনের জুটি। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে নবম উইকেটে এটাই সবচেয়ে বেশি রানের জুটির রেকর্ড। বাউচার ও সিমকক্স খেলেছিলেন নিজেদের মাঠে, জোহানেসবার্গে।

হারারে টেস্টের প্রথম দিনে দলীয় ২৭০ রানে ৮ উইকেট খুইয়েছিল বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে স্কোরবোর্ডে তিনশ রান জমা করার আগে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তাদের। কিন্তু আটে নামা মাহমুদউল্লাহ ও দশে নামা তাসকিন মিলে ঘটিয়ে ফেলেছেন রীতিমতো অবিশ্বাস্য কাণ্ড। তাদের কল্যাণে ইতোমধ্যে সাড়ে চারশ ছাড়িয়ে গেছে সফরকারীদের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের এলোমেলো বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ের বিপরীতে অনায়াসে খেলছেন ১৭ মাস পর টেস্টে ফিরেই সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া মাহমুদউল্লাহ। তাসকিনও উপহার দেন সাবলীল ব্যাটিং। তাতে রান আসছে বেশ ভালো গতিতে।

নিয়মিত বোলাররা যখন দিশা পাচ্ছিলেন না, তখন দ্বিতীয় সেশনে অনিয়মিত বাঁহাতি স্পিনার মিল্টন শুম্বা জুটি ভাঙতে সমর্থ হন। স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তাসকিন। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পাওয়া এই বোলার সাজঘরে ফেরেন ৭৫ রানে। তার ১৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ১১ চার।

স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে যে জুটি ভাঙার সুযোগ পায়নি তা নয়। এদিনের প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টাতেই তারা পেতে পারত সাফল্য। ব্যক্তিগত ৩২ রানের সময় রিচার্ড এনগারাভার বলে স্লিপে তাসকিনের সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন পরে তাকে ফেরানো শুম্বাই।

মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের জুটির ১৫৫ রানের সময় রানআউটেরও একটি সুযোগ নষ্ট করে জিম্বাবুয়ে। ব্লেসিং মুজারাবানির ডেলিভারি পয়েন্টে ঠেলে দিয়েই দৌড় দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। নন-স্ট্রাইকে থাকা তাসকিন অনেক দেরি করে ফেলায় স্ট্রাইক প্রান্তে তৈরি হয় সুযোগ। কিন্তু ফিল্ডার ডিয়ন মেয়ার্স ভোগেন দোটানায়। স্টাম্পের দিকে দৌড় শুরু করেও থেমে গিয়ে তার গড়িয়ে দেওয়া বল লক্ষ্যে আঘাত করতে পারেনি।