পোলার্ড-ব্র্যাভোর নৈপুণ্যে সমতায় ফিরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক

লেন্ডল সিমন্সের ঝড়ো শুরুর পর পথ হারাতে বসা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিশা দিলেন অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। তার ঝড়ো ফিফটিতে দল পেল জুতসই পুঁজি। পরে বল হাতে ডোয়াইন ব্র্যাভো জ্বলে উঠলে সহজেই ম্যাচ জিতেছে ক্যারিবিয়ানরা। 

গ্রানাডার বৃহস্পতিবার রাতে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ২১ রানে। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬৭ রান জড়ো করেছিল ক্যারিবিয়ানরা। জবাবে কুইন্টেন ডি ককের ফিফটির পরও দক্ষিণ আফ্রিকা থেমেছে ৯ উইকেটে ১৪৬ রানে। এতে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এসেছে ২-২ সমতা।

এদিন প্রোটিয়াদের গুটিয়ে দিতে মাত্র ১৯ রানে ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট নেন ব্র্যাভো। দলের জন্য ব্যাটে- বলে অবদান অধিনায়ক পোলার্ডের। ছয় নম্বরে নেমে ২৫ বলে ৫১ রান করার পর ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তিনি নেন রাসি ফন ডার ডুসেনের উইকেট।

এদিন টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই আগে ব্যাট করতে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিমন্স এক প্রান্তে দ্রুত রান বাড়াতে থাকলেও আরেকদিকে পড়ছিল উইকেট। দলের ২৭ রানে ৫ বলে ৭ করে আনরিক নরকিয়ার শিকার হন এভিন লুইস। তিনে নামা ক্রিস গেইল ৮ বলে ৫ রান করে আউট হন কাগিসো রাবাদার বলে।

 

Kieron Pollard

 

৩২ রানে ২ উইকেট হারানো দল তবু দিশা পাচ্ছিল সিমন্সে ব্যাটে। প্রোটিয়া বোলারদের পিটিয়ে তিনি মেটাচ্ছিলেন দলের চাহিদা। শেমরন হেটমায়ারকে এক পাশে রেখেও তিনি পেয়ে যান আরেক জুটি। ৩১ রানের জুটির সমাপ্তি হেটমায়ারের বিদায়ে। স্পিনার জর্জ লিন্ডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামেন ৭ রান করা হেটমায়ার। ৩৪ বলে ৪টি করে ছক্কা-চারে ৪৭ করা সিমন্সকেও খানিক পর তুলে নেন লিন্ডে।

নিকোলাস পুরানের ব্যাট থেকেও আসেনি কার্যকর ইনিংস। ১৫ বলে ১৬ করা পুরান ফেরেন চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসির বলে। বিস্ফোরক আন্দ্রে রাসেলকেও শিকার করেন তিনি। তবে শেষ দিকে চাহিদা মিটিয়ে দেন পোলার্ড। ৫ ছক্কা, ২ চারে ফিফটি করে দলকে নিয়ে যান নিরাপদ জায়গায়।

১৬৮ রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। উইকেট একটু মন্থর দেখে দ্বিতীয় ওভারেই গেইলের হাতে বল দিয়েছিলেন পোলার্ড। অফ স্পিনে গেইল কাবু করেন রেজা হেন্ডড্রিকসকে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে ফেরান ওবেদ ম্যাককয়। ওপেন করতে নেমে এক পাশে রান আসছিল কেবল ডি ককের ব্যাটে। যোগ্য সঙ্গী পাচ্ছিলেন না তিনি।

চারে নামা এইডেন মার্ক্রাম থিতু হয়ে ফিরেছেন আন্দ্রে রাসেলের বলে বোল্ড হয়ে। ডুসেনকে পোলার্ড তুলে নেওয়ার পর ডেভিড মিলারকে ছাঁটেন রাসেল। লিন্ডে আউট হন ব্র্যাভোর বলে। ব্র্যাভো পরে নেন সবচেয়ে বড় উইকেট। 

এক প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিলের মাঝে ধৈর্য হারান ডিককও। ৪৩ বলে ৬০ করা ডি কক আউট হলে ১২৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। এরপর আর তাদের ম্যাচে ফেরার অবস্থা ছিল না। রাবাদা ১২ বলে ১৬ করলে দেড়শোর কাছেই যেতে পেরেছে ইনিংস।