‘বল দিয়ে পারলে কিছু করো’, মুজারাবানিকে বলেছিলেন তাসকিন
তাসকিন আহমেদ ব্লেসিং মুজারাবানির বল ছেড়ে দিয়ে নাচ করলেন। পরে মুজারাবানি এগিয়ে গিয়ে কিছু একটা বললেন, তাসকিনও তেড়ে এসে চোখে চোখ রাখলেন। দশ নম্বরে নেমে ৭৫ রানের ইনিংসের মধ্যে ঘটা এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়েছে ভাইরাল। দিনের খেলা শেষে তাসকিন জানালেন সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট।
বৃহস্পতিবার সকালের প্রথম ঘণ্টা তখন অনায়াসে কাটিয়ে দিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। মুজারাবানির ভালো লেন্থের বল ছেড়ে দিয়ে একটু ‘ড্যান্স’ করে নিলেন। জিম্বাবুয়ের সফলতম পেসার ছুটে গিয়ে তাসকিনকে স্লেজিং করতেই এগিয়ে এসে চোখে চোখ রেখে জবাব দিলেন বাংলাদেশের পেসার। বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিং করে আসা তাসকিন গণমাধ্যমে পাঠানো ভিডিওতে জানিয়েছেন কী ছিল সেই ঘটনা, ‘ওরা অব পেস বোলাররা এসে আমাকে আক্রমণ করছিল, বাউন্সার মারছিল, ভালো জায়গায় বল করছিল। আউট করার চেষ্টা করছিল। আমি আসলে ভালোভাবে সামলে নিচ্ছিলাম। তো বিরক্ত হয়ে ও আমাকে বেশ কয়েকবার গালিও দিয়েছে। তিন নম্বরবার যখন গালি দিয়েছে তখন আমি তেড়ে গিয়ে বলেছিলেয়াম, “আমাকে কেন গালি দিচ্ছ, বল দিয়ে পারলে কিছু করো।” এটাই, আসলে তেমন কিছু না।’
নবম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ১৯১ রানের জুটি গড়েন তাসকিন। টেস্টে নবম উইকেটে এটিই বাংলাদেশের সেরা জুটি। একটুর জন্য হতে পারত বিশ্ব সেরা জুটি। নবম উইকেটে মার্ক বাউচার-প্যাট সিমকক্সের ১৯৫ রানের জুটি ভাঙ্গার বেশ কাছেও চলে গিয়েছিলেন তারা।
বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গতে না পারলেও তাসকিন যা করেছেন তা ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশার সকল সীমা। আগের দিনের ৮ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে নেমে বাংলাদেশ যোগ করতে পেরেছে আরও ১৭৪ রান। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানো দল পরে পেয়েছে ৪৬৮ রানের বিশাল পুঁজি।
বাঁহাতে ব্যাট করা এই ডানহাতি পেস বোলার জানালেন, হুট করেই নয়, নিবিড় অনুশীলনের ফলই পেয়েছেন তিনি, ‘সত্যি কথা বলতে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং অনুশীলন করা হয়। যেহেতু রিয়াদ ভাই এক পাশে ছিল কাজেই লক্ষ্য ছিল তাকে সাপোর্ট দেওয়া। রিয়াদ ভাই আমাকে কথা বলে বলে খেলিয়ে নিচ্ছিল। স্টাম্পের বল যাতে দেখে খেলি সেটা বলছিল। আমি আমার জোনের বল পেলেই মারার চেষ্টা করেছি।’
প্রথম দিনের দুই সেশনেই ৬ উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর লিটন দাস-মাহমুদউল্লাহ ১৩৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। ৯৫ করে লিটনের বিদায়ে এই জুটি ভাঙ্গার পর দ্রুত আরেক উইকেট পড়লে তিনশোর নিচেই আটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল। সেই অবস্থা থেকে তাসকিনের ৭৫ রানের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসই বদলে দেয় সব।
তাসকিন জানালেন, উইকেট খেলার জন্য বেশ সহজ হয়ে যাওয়াতেই কাজটাও সহজ হয়ে যায় তাদের, ‘উইকেটটা অনেক ভাল হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দিনের প্রথম সেশন ছাড়া উইকেট একদম ভালো হয়ে গিয়েছিল। রিয়াদ ভাই বলছিল উইকেট ভালো হয়ে যাচ্ছে রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে বোলারদের সাহায্য হয়। রিয়াদ ভাই বলছিল উলটাপালটা না খেলে সোজা ব্যাটে খেলার জন্য।’
এই ৭৫ রানেই আটকে না থেকে নির্ভরযোগ্য একজন টেল এন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যও জানিয়েছেন তিনি, ‘সব সময় লক্ষ্য থাকে ভালো টেল এন্ডার হওয়ার। প্রত্যেকটা বড় দলে টেল এন্ডাররা রান করে। আমিও চাই নির্ভরযোগ্য টেল এন্ডার হতে। যাতে দ্রুত উইকেট পড়লে দলের প্রয়োজনে অন্য পাশের ব্যাটসম্যানকে সাপোর্ট করতে পারি।’