বাবর-ইমামের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়েই অজিদের হারাল পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক

২০১৪ সালে শহীদ আফ্রিদির তোপে বাংলাদেশের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল পাকিস্তান। টাইগারদের দেওয়া ৩২৭ রানের লক্ষ্য পাড়ি দেওয়াই এতো দিন ছিল পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। এদিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে নতুন রেকর্ডই গড়তে হতো দলটিকে। আর তা বেশ সহজেই করেছে তারা। অধিনায়ক বাবর আজম ও ওপেনার ইমাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে অজিদের হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল স্বাগতিকরা।

বৃহস্পতিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান করে অজিরা। জবাবে ৬ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় বাবর আজমের দল।

মূলত অধিনায়ক বাবর ও ইমামের অসাধারণ ব্যাটিংয়েই সহজ জয় মিলে পাকিস্তানের। দুই ব্যাটারই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। প্রথম ওয়ানডেতে ১০৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে না পারলেও এদিন ১০৬ রানের ইনিংসে দলের জয়ে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন ইমাম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটা তার নবম সেঞ্চুরি। আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা বাবর এ ম্যাচে পেলেন তিন অঙ্কের ছোঁয়া। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে খেলেন ১১৪ রানের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটাই দারুণ করে পাকিস্তান। দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম-উল-হকের ওপেনিং জুটিতেই আসে ১১৮ রান। এরপর ফখর বিদায় নিলে অধিনায়ক বাবরের সঙ্গে ৯২ বলে ১১১ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন ইমাম। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬১ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন বাবর। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান। এরপর ১৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন ইফতেখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। ৮৩ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান অধিনায়ক। ৯৭ বলের ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন ইমাম। ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। ৬৪ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন ফখর। এছাড়া খুশদিল অপরাজিত ২৭ ও রিজওয়ান ২৩ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৭১ রানের খরচায় ২টি উইকেট নেন অ্যাডাম জাম্পা।

এদিন টস জিতেছিল পাকিস্তান। বোলিং বেছে নিয়ে শুরুটাও মন্দ করেনি তারা। শুরুতেই অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে তুলে নেন শাহিন শাহ। তবে এরপর পাকিস্তানিদের হতাশায় ডুবিয়ে আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে নিয়ে দলের হাল ধরেন বেন ম্যাকডেরমট। ১৪৪ বলে গড়েন ১৬২ রানের জুটি। দুই ব্যাটারই সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ১১ রান দূরে থাকতে হেডকে তুলে নিয়ে এ জুটি ভাঙেন জাহিদ মাহমুদ। ৭০ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৯ রান করেন হেড।

তবে হেড না পারলেও ঠিক ই সেঞ্চুরি তুলে নেন ম্যাকডেরমট। মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে ৭৪ রানের আরও একটি জুটি গড়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের শিকার হন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে খেলেন ১০৪ রান। ১০৮ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। এরপর ছোট ছোট জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুঁজিই পায় দলটি। লাবুশেন ৪৯ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেন। ৩৩ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৯ রান করেন মার্কাস স্টয়নিস। শেন অ্যাবটের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।

পাকিস্তানের পক্ষে ৬৩ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন শাহিন শাহ। ৫৬ রানের বিনিময়ে ওয়াসিমের শিকার ২টি।