বিজয়ের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে জয়ে ফিরল প্রাইম ব্যাংক
এক প্রান্তে ঝড় তুলে ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্ভব ছিল লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড করাও। হয়নি। তবে দলকে বিশাল পুঁজি ঠিকই এনে দিলেন এনামুল হক বিজয়। তার ব্যাটে চড়েই জয়ের ধারায় ফিরেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
রোববার সাভারের বিকেএসপিতে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ১১১ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮৮ রান করেন তারা। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭৭ রানের বেশি করতে পারেনি শাইনপুকুর।
এদিন একাধিক রেকর্ডই হতে পারতো বিজয় ও তার দল প্রাইম ব্যাংকের। ১৪২ বলে ১৮ চার ও ৮ ছক্কায় ১৮৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন বিজয়। তিনি যখন আউট হয়েছে তখনও ওভার বাকি ছিল নয়টি। অন্তত সৌম্য সরকারের করা দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ২০৮ ইনিংস টপকানোর সুযোগ ছিল। একই সঙ্গে দলীয় রান আর ৫ বেশি করতে পারলে আবাহনী লিমিটেডের করা ৩৯৩ রানের দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও পার করতে পারতো দলটি।
তবে বিজয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়ে নাসির হোসেন খেলেছেন কার্যকরী এক ইনিংস। শেষদিকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। প্রায় দুইশ স্ট্রাইক রেটে ৩২ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ৩ চার ও ৫ ছক্কা।
রানের দেখা পেয়েছেন শাহাদাত হোসেন দিপুও। করেছেন ৪৭ বলে ৪৭ রান। বিজয়ের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ১৬২ রান। ভারতের অভিমন্যু ঈশ্বরনের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ৩০ রান। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩৮ রান করেন ২৬ বলে।
শাইনপুকুরের পক্ষে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন আসাদুজ্জামান পায়েল। বিজয় ও মিঠুনকে সাজঘরে ফেরাতে পারলেও ১০ ওভারে এই পেসার দেন ৮৮ রান। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাও নেন ২ উইকেট। তবে সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে তিনি ছিলেন বেশ আঁটসাঁট। তার ৮ ওভার থেকে আসে ৪১ রান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ৪২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শাইনপুকুর। তবে চতুর্থ উইকেটে মাহিদুল ইসলাম অংকনকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা। এরপর সাজ্জাদুল হক রিপনকে নিয়ে ১১৮ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন এ জিম্বাবুইয়ান। তবে এ জুটি ভাঙতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে খুব বেশি আগাতে পারেনি দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৮ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ১০৯ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৫৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন রিপন। এছাড়া রাহাতুল ফেরদৌস অপরাজিত ২৮ ও অংকন ২৭ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৪৫ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান রাকিবুল হাসান।