বিনা আবেদনে এলবিডাব্লিউ : 'এতো কুইক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কারণ কি?'
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়া নতুন কিছু নয়। অনেক নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনাই হয়েছে। তবে রোববার আবাহনী লিমিটেড ও খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ম্যাচে যেন সবকিছুই ছাপিয়ে যায়। বোলার-কিপারদের আবেদন ছাড়াই আউট দেন আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। তবে এমন কাণ্ডের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সামাজিকমাধ্যম ইউটিউবের বরাতে চলে আসে অন্যান্য সব সামাজিকমাধ্যমেও। রীতিমতো ভাইরাল হয়ে দাঁড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি চোখে পড়ে আম্পায়ার্স কমিটির। ঘটনাটি তাদের সামনে আসার পর মুকুলকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু, 'আমার নজরেই এসেছে। খেলাঘর কোনো অভিযোগ করেনি। আম্পায়ার্স কমিটি থেকেই তার কাছে এমন ভুলের আনুষ্ঠানিক কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।'
দায়িত্বরত আম্পায়ার মুকুলকে এ নোটিস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিঠু বলেন, 'আমি মুকুলের সঙ্গে কথা বলেছি। মুকুল আমাকে জানিয়েছে সে ভুল করেছে। অমনোযোগী হওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। শোনার পর আমি মুকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এর থেকেতো বেশি কিছু করার নেই। আম্পায়াররা তো মানুষ, তাদেরতো ভুল হতে পারে। আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে মেইল পাঠাচ্ছি মুকুলের কাছে ভিডিও ফুটেজটা দিয়ে। আমরা তার কমেন্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে জানতে চাই।'
রোববার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঘটে এই ঘটনা। আবাহনীর দেওয়া ২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিলেন ওপেনার হাসানুজ্জামান ও অমিত মজুমদার। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের খেলা চলছিল তখন। আরাফাত সানির শেষ বলে পা বাড়িয়ে সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ওপেনার হাসানুজ্জামান। এলবিডব্লিউয়ের আবেদন আসেনি সানির কাছ থেকে। আসেনি উইকেটরক্ষকের কাছ থেকেও। বরং তাদের শরীরী ভাষায় হতাশার ছাপই ছিল স্পষ্ট।
আর এমন আউটে হাসানুজ্জামান কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! আম্পায়ার আঙুল উঁচু করায় সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ক্রিজের মাঝপথে থেমে যান তিনি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন আম্পায়ার মুকুলের দিকে। এরপর হেলমেটে হাত রেখে ধীরে ধীরে তা নামিয়ে আলতো করে আঘাত করেন নিজের পায়ে। তার শরীরী ভাষায় ফুটে ওঠে হতাশা ও অসন্তোষ।
বোলার কোনো আবেদন না করার পরও কেন এতো দ্রুত আউট দিয়েছেন সে ব্যাপারটি লিখিত আকারে স্পষ্ট জানতে চেয়েছেন মিঠু, 'আমি জানতে চেয়েছি এতো কুইক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কারণ কি? সে বলেছে হয়তো আমার মনোযোগের ঘাটতি ছিলো। আমি বলেছি ওটা লিখিত দাও। মনোযোগের ঘাটতি ২/১ বার গ্রহণ করা যাবে। বারবার তো যাবে না।'
অথচ বাংলাদেশের হয়ে বর্তমান সময়ে প্রায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন মুকুল। এরমধ্যেই ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার ছিলেন তিনি। যার মধ্যে ১২টি মূল আম্পায়ার হিসেবে ও পাঁচটি টিভি আম্পায়ার হিসেবে। ৭টি ম্যাচে টিভি আম্পায়ারিং সহ মোট ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া নারীদের ৫টি ওয়ানডে ও ৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি।