বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করবেন রুতুরাজ, শেবাগের ভবিষ্যদ্বাণী
আইপিএলে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরিতে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) ২৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের প্রশংসায় সরব হয়েছেন ভারতের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। বীরেন্দর শেবাগের মতে, কেবল আইপিএলে সীমাবদ্ধ থাকবে না রুতুরাজের ব্যাটের জাদু, তিনি খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠা পাবেন বিশ্বমঞ্চে।
আগের দিন শনিবার আবুধাবিতে বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দেন উদীয়মান ভারতীয় ওপেনার রুতুরাজ। রাজস্থান রয়্যালসের বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের শেষ ডেলিভারিতে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি স্বাদ নেন সেঞ্চুরির। মাত্র ৬০ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি মারেন ৯ চার ও ৫ ছয়।
রুতুরাজের মধ্যে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করার রসদ দেখতে পাচ্ছেন শেবাগ। সাবেক এই বিধ্বংসী ওপেনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, 'নামটা মনে রাখুন- রুতুরাজ গায়কোয়াড়। অসাধারণ খেলোয়াড়, আরও অসাধারণ কিছুর জন্য তার জন্ম হয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করা তার জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।'
২০১৯ সালের আইপিএলে চেন্নাই দলে টানে দারুণ সম্ভাবনাময় রুতুরাজকে। সেবার অবশ্য কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। পরের আসরে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখেন। ৬ ম্যাচে ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ৫১.০০ গড় ও ১২০.৭১ স্ট্রাইক রেটে ২০৪ রান করেন তিনি। আর এবারের আইপিএলে মুগ্ধতা ছড়িয়েই যাচ্ছেন রুতুরাজ। সিএসকের ১২ ম্যাচের সবকটিতে খেলে ৩ হাফসেঞ্চুরি আর ১ সেঞ্চুরিতে তার সংগ্রহ ৫০৮ রান। গড় (৫০.৮০) প্রায় আগের মতো থাকলেও স্ট্রাইক রেট (১৪০.৩৩) বেড়েছে অনেক। রাজস্থানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের স্থানও দখল করেছেন তিনি।
রুতুরাজের ব্যাটিংয়ে মজে ভারতের তারকা অফ স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন টুইট করেছেন, 'রুতুরাজ, কী দারুণ একটি ইনিংস এবং কী দারুণ একজন খেলোয়াড়!'
আইপিএলের আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ ও সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ টুইটারে জয়গান গেয়েছেন রুতুরাজের আত্মবিশ্বাসের, 'রুতুরাজ দেখাচ্ছে যে, খেলার ধরন না পাল্টালেও নিজের ওপর আস্থার মাধ্যমে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেওয়া একজন খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত হতে পারেন আপনি।'
যাকে নিয়ে এত শোরগোল, সেই রুতুরাজ নিজের টাইমিংয়ের দক্ষতা সম্পর্কে অবগত থাকলেও নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের বিকল্প দেখছেন না, 'যখন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি, অনেক কোচের সান্নিধ্য পেয়েছি। তারা সবাই আমাকে বলেছেন যে, টাইমিং করার সহজাত গুণ রয়েছে আমার। আমি সেটাই কাজে লাগাচ্ছি। ২০১৯ সালে যখন আমি সিএসকেতে অন্তর্ভুক্ত হই, আমি কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। তবে ড্রেসিং রুমে থেকে আমি অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। তখন নিয়মিত অনুশীলন করতে, পরিশ্রম করতে এবং কোনো কিছু অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ চেষ্টা করতে জেনেছি।'
রুতুরাজের অনবদ্য ইনিংস সত্ত্বেও ম্যাচটা জিততে পারেনি চেন্নাই। তাদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ৭ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখে অনায়াসে পেরিয়ে যায় রাজস্থান। কারণ সিএসকের বোলারদের ওপর ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান এভিন লুইস, যশস্বী জইসওয়াল ও শিভাম দুবে।
নিজে সেঞ্চুরি পেলেও দল হারায় পুরোপুরি তৃপ্তি মেলেনি রুতুরাজের। আশাহত না হয়ে তিনি তাকিয়ে আছেন সামনের দিকে, 'সেঞ্চুরি করার স্বপ্ন দেখিনি। লক্ষ্য ছিল ১৬০-১৭০ রান যেন করতে পারি সেটা নিশ্চিত করা। বিজয়ী দলে থাকতে পারলে ভালো লাগত। হয়তো পরেরবার পারব।'
গত জুলাইতে অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে রুতুরাজের। এখন পর্যন্ত ভারতের জার্সিতে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কলম্বোতে অভিষেক ম্যাচে ১৮ বলে ২১ করার পর একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি করেন ১০ বলে ১৪ রান।