বোলিং গুরুত্ব দিয়ে প্রথম আসরেই বাজিমাত গুজরাটের

স্পোর্টস ডেস্ক

এবারই প্রথম আইপিএলে নেমেছিল গুজরাট টাইটান্স। গ্যারি কারস্টেনকে মেন্টর আর আশিস নেহরাকে কোচ বানিয়ে নিলামে পরিকল্পিত স্কোয়াড বানায় তারা। হার্দিক পান্ডিয়াকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপর রাখে ভরসা। বিশেষ করে বোলিং আক্রমণে দেয় বাড়তি নজর।  টুর্নামেন্ট জেতার পর সেটাকেই মূল কারণ বলছেন হার্দিক ও কারস্টেন। 

রোববার আহমেদাবাদে আইপিএলের ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় গুজরাট। 

ফাইনালে তাদের ম্যাচ জেতানোর কাজ করে দেন বোলাররাই। রাজস্থানকে আটকে দেয় ১৩০ রানে। বোলিং-ব্যাটিং দুই জায়গাতেই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হার্দিক। মাঝের ওভারে বল করতে এসে ৪ ওভারে স্রেফ ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। পরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট করতে গিয়ে করনে ৩৪ রান।

ফাইনাল জেতার পর আনন্দে উদ্বেল গুজরাট অধিনায়ক কৃতিত্ব দিয়েছেন কোচিং স্টাফকে। সেই সঙ্গে নিজেদের পরিকল্পনার গুণগান গেয়েছেন তিনি,  'সাপোর্ট স্টাফরা খেলোয়াড়দের যে পরিমাণ সহায়তা করেছেন তা অসাধারণ ছিল। দল হয়ে খেললে কি হতে পারে এটা একটা বড় উদাহরণ। আপনি দুর্দান্ত কিছু করবেন।। আমি ও আশু পা (আশিস নেহরা) একই চিন্তাভাবনার। আমরা বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতে চেয়েছি যারা ম্যাচ জেতাবে। টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের খেলা কিন্তু ম্যাচ জেতায় বোলাররা। আশিস (নেহরা), আশিস কাপুর, গ্যারি (কারস্টেন) ও সব লজিস্টিক স্টাফদের কৃতিত্ব দিতে হবে। এই শিরোপাটা বিশেষ। কারণ আমরা একটা লিগ্যাসি তৈরি করেছি। আগামী প্রজন্ম যেটা নিয়ে কথা বলবে।'

প্রায় প্রতি ম্যাচেই গুজরাট একাদশে দেখা তিন বিশেষজ্ঞ পেসার ও দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনারকে। সেইসঙ্গে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে ছিলেন অধিনায়ক হার্দিক নিজেই। ফাইনালে গড়ে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতিতে বল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। 

অবশ্য এতগুলো বোলার রাখাতে দুইজন খুব ভাল অলরাউন্ডার থাকা কাজে দিয়েছেন। হার্দিক নিজে টুর্নামেন্টে করেছেন চতুর্থ সর্বোচ্চ ৪৮৭ রান, পেয়েছেন ৮ উইকেট। রশিদ খানের চার ওভার তো যেকোনো দলের জন্যই আরাধ্য। সেই রশিদ বোলিং ছাড়াও এবার ব্যাটে ঝড়ে তুলে দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। স্পিনিং অলরাউন্ডার হলেও রাহুল তেওয়াতিয়াকে বলই তেমন হাতে নিতে হয়নি।

বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে খেলা মোহাম্মদ শামি, লকি ফার্গুসেন, ইয়াশ দয়ালরা দেখিয়েছেন নিজেদের ঝলক।

কারস্টেনও জানালেন তাদের সাফল্যের পেছনে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ রেখেছে বড় ভূমিকা,  'আপনি যদি ভারসাম্য চান, গভীরতা চান নিলামে বৈচিত্র্যময় ক্রিকেটারদের জোর দেবেন। পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ ছিল এবং শেষ অবধি আমরা একজন বাড়তি বোলার নিয়ে খেলেছি, ব্যাটসম্যান কম রেখেছি। হার্দিক শেখার জন্য খুব বিনয়ী ছিল। সে দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। দায়িত্ব নিয়েছে।'

'টি২০ খুব টেকটিক্যাল খেলা। আশিসের (নেহরা) সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে। টেকটিক্যালি সে খুব ভাল। ১ লাখ মানুষের সামনে প্রথম আসরেই জেতা এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।'