ভবিষ্যৎ নিয়ে সিনিয়রদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ বিসিবির

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলা ঘনিয়ে এসেছে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের তাই আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাদিগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, এসব ক্রিকেটাররা নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিলে বোর্ডই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন। খেলেছেন বাকি দুই সংস্করণ। তামিম ইকবাল টি-টোয়েন্টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে খেলছেন বাকি দুই সংস্করণ।

এর বাইরে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম এখনো তিন সংস্করণেই নিজেদের 'এভেইলেবল' রেখেছেন। তবে ধীরে ধীরে তাদের পরিধিতেও কমিয়ে আনার পক্ষে বোর্ড।

রোববার হোটেল সোনারগাঁয়ে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সভা শেষে বেরিয়ে নাজমুল আভাস দেন, ধীরে ধীরে দল পুনর্গঠনের দিকে হাঁটতে যাচ্ছেন তারা। সেকারণে সিনিয়রদের সংস্করণ ভেদে আলাদা পরিকল্পনার কথা জানতে চায় বোর্ড,  'তারা মন খারাপ করে যাক (অবসরে), আমরা চাই তারা হাসিমুখে যাক। নিজেরা সিদ্ধান্ত নেক, যত তাড়াতাড়ি তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ততই ভালো। কিন্তু একটা সময় তো আসবে যদি সিদ্ধান্ত না নেয়, তখন আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের বলতে আমি না, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট, সবাইকে নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটাই হবে। আমার ধারনা তাই করবে, অলরেডি তো রিয়াদ টেস্ট থেকে সরে আসছে, তামিম টি-২০ খেলছে না, মুশফিক এখনো খেলছে, বাট ওর চিন্তা ভাবনা জানা যাবে, ও কি চিন্তা ভাবনা করছে, আমরা জানতে পারব।'

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হারিয়েছিলেন মুশফিক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবার ফিরেও এসেছিলেন। তবে এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে বিসিবি টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় আর রাখছে না বলেই জোর গুঞ্জন আছে।

বাকি তিনজন থেকে পারফরম্যান্সের কারণেই সাকিব মূল্য পাচ্ছেন আলাদাভাবে। বোর্ড প্রধান জানালেন সাকিবকে নিয়ে সমস্যা বরং অন্য। চাইলেও তাকে কখন দলের প্রয়োজনে পাওয়া যাবে তারা তা জানেন না,  'আর আছে সাকিব, সাকিবের ব্যাপারটা আবার এদের কারোর সঙ্গে মিলে না। সাকিবের ব্যাপারটা বলাটা কঠিন। সব ফরম্যাটে সবাই ওকে চায়, কিন্তু ওকে পাওয়াটা কঠিন। আমরা আসলে নিজেরাই জানি না ও কোনটা খেলবে কোনটা খেলবে না, ওর সঙ্গে আমি যখন কথা বলি আমার মনে হয় ও সবগুলোই খেলতে চায়। কিন্তু আবার যখন খেলা আসে, তখন দেখা যায় ওর সমস্যা।'

৩৬ পেরুনো মাহমুদউল্লাহকে চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অধিনায়ক হিসেবে দেখা যাবে। গত বিশ্বকাপে চরম ভরাডুবি হলেও মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্বে কোন সমস্যা দেখছেন না বিসিবি সভাপতি। তবে বিশ্বকাপের পর মাহমুদউল্লাহকে হয়ত অবসরের সিদ্ধান্তই নিতে হবে, বিসিবির চাওয়া সেরকমই।

বিসিবি প্রধান চান, সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তগুলো খেলোয়াড়রা যেন নিজেরাই নিয়ে নিতে পারেন,  'আমি মনে করি যে এই সিদ্ধান্তটা খেলোয়াড়দেরই নিতে হবে। প্রথম নিতে পারলে ভালো, খেলোয়াড়রা নিতে পারলেই ভালো। খামাখা এগুলো মিডিয়াতে না বলে বোর্ডের সঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নিলে ভালো'