বাদ পড়ার পর দাপট দেখিয়ে জয় পেল মোহামেডান
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার সিক্স পর্ব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের না ওঠা নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। শেষ ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে বড় ব্যবধানে হারিয়েও ঐতিহ্যবাহী দলটিকে তাই পুড়তে হলো আক্ষেপে। মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় আসরের প্রথম পর্ব থেকেই বাদ পড়ে গেল সাদা-কালো জার্সিধারীদের।
শুক্রবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ৮০ রানে জিতেছে মোহামেডান। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৫ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন রূপগঞ্জ ৪৯.১ ওভার খেলে করতে পারে ২২৭ রান।
১০ ম্যাচে পাঁচটি করে জয় ও হারে মোহামেডানের পয়েন্ট ১০। তালিকার সাত নম্বরে থেকে প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেছে তারা। সমান পয়েন্ট হলেও 'হেড টু হেড' হিসাবে এগিয়ে থাকায় রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স পেয়েছে সুপার সিক্সের টিকিট। প্রথম পর্বে এই দুই দলের কাছেই হেরেছিল মোহামেডান।
মোহামেডানের বড় সংগ্রহের পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন কুশল মেন্ডিস। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার খেলেন ১০১ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস। তিনে নেমে ৯১ বল মোকাবিলা করে তিনি মারেন ৭ চার ও ৪ ছক্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ১১৫ ও চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়েন তিনি।
পারভেজ ৭ চার ও ৪ ছক্কায় আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে করেন ৬৮ বলে ৭৬ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে মাহমুদউল্লাহ খেলেন বিস্ফোরক ইনিংস। মাত্র ৪৭ বলে ৭০ রান করতে তিনি হাঁকান ৫ চার ও ৪ ছক্কা।
এক পর্যায়ে, ইনিংসের ৩৬ ওভারে মোহামেডানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৫৪ রান। তবে কুশল বিদায় নেওয়ার পর মড়ক লাগে দলটির। এক প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ টিকে থাকলেও অন্যদিকে চলে আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষ ৭ উইকেট তারা হারায় কেবল ৫৩ রানে। রূপগঞ্জের হয়ে পেসার মেহেদী হাসান রানা ৪ উইকেট নেন ৫০ রানে।
রান তাড়ায় তৃতীয় বলে বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম। আরেক ওপেনার রকিবুল হাসান নয়ন ও ভারতের চিরাগ জানির জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। তিন বলের মধ্যে দুজনকে মাঠছাড়া করেন তিনি।
রূপগঞ্জের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন চলতে থাকে। একশ পেরোতেই সাজঘরের পথ ধরেন ছয় ব্যাটার। সেই বিপর্যস্ত অবস্থান থেকে তিনশ ছাড়ানো লক্ষ্য ছুঁতে করতে হতো দারুণ কিছু। কিন্তু নাঈম ইসলাম ছাড়া আর কেউই পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। ১১৮ বলে ৮ চারে ৮০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
নয়ন ৩০ বলে ৫ চারে করেন ৩৩ রান। আটে নেমে মাশরাফির তোলা ঝড় টেকেনি বেশিক্ষণ। ১৬ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩০ রান করেন তিনি। তাকে আউট করা অপু বল হাতে ছিলেন উজ্জ্বল। ৩৫ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন তিনি। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় ৫ উইকেট।