মাহমুদউল্লাহর ১৫০, বিশাল পুঁজি নিয়ে থামল বাংলাদেশ
৮ রানেই পড়েছিল ২ উইকেট। অধিনায়ক মুমিনুল হকের প্রতিরোধের পরও মিডল অর্ডারের ধসে ১৩২ রানে ৬ উইকেট পড়ে অল্প রানে আটকে যাওয়ার পথে ছিল বাংলাদেশ। এরপরই বদলে গেল গল্প। সাতে নামা লিটন দাস ৯৫, আটে নামা মাহমুদউল্লাহ ১৫০ আর দশ নম্বরে নেমে তাসকিন আহমেদ করে ফেললেন ৭৫ রান। বাংলাদেশ চড়ল রানের পাহাড়ে।
হারারেতে টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ সেশন ব্যাট করে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৪৬৮ রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ রান করে অপরাজিত ছিলেন ১৭ মাস পর নাটকীয়ভাবে টেস্টে ফেরা মাহমুদউল্লাহ। ৯৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল ব্লেসিং মুজারাবানি।
আগের দিনের ৮ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে নেমে খুব বেশি এগুনোর আশা বাংলাদেশের ছিল না। দলের চাওয়া ছিল আরও ৫০/৬০ রান। অথচ শেষ দুই উইকেট নিয়ে দল যোগ করেছে আরও ১৭৪ রান! প্রত্যাশার চেয়ে যা কয়েকগুণ বেশি।
তাতে জিম্বাবুয়ের দুর্বল, আলগা বোলিং, বাজে ফিল্ডিং, নির্বিষ অধিনায়কত্বের দায় আছে ঢের। তবে মাহমুদউল্লাহ আর তাসকিনও দেখিয়েছেন নিজেদের টেম্পারমেন্টের সেরাটা। নবম উইকেট জুটির বিশ্ব রেকর্ড প্রায় গড়েই ফেলেছিলেন। ৪ রানের জন্য তা না হলেও ১৯১ রানের জুটিতে বসেছেন মার্ক বাউচার আর প্যাট সিমকক্সের পরেই। অবশ্যই বাংলাদেশের হয়ে এটিই সেরা নবম উইকেট জুটি। এর আগেরটিতেও জড়িয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ২০১২ সালে আগেরটিতে তার সঙ্গী ছিলেন আবুল হাসান রাজু। দশ নম্বরে নেমে অভিষেকে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
সকালের শুরুতে এদিন তেমন কোন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ প্রথম ঘণ্টায় তুলে ৫৫ রান, দ্বিতীয় ঘণ্টাতেও আসে আরও ৫৫। তবে এবার সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। ৩২ রানে থাকা তাসকিনের সহজ ক্যাচ স্লিপে ছেড়ে দেন মিল্টন শুম্বা। পরে তাসকিন থেমেছেন ৭৫ রানে। আর আগে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কখনো ফিফটি না করা তাসকিন এদিন রূপ নেন পুরো ব্যাটসম্যানে। অবশ্য ফিফটির পরও তাকে রান আউট করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে জিম্বাবুয়ে।
শেষ পর্যন্ত অনিয়মিত বাঁহাতি স্পিনার মিল্টন শুম্বার বলে মারতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তাসকিন ফেরার পর ইনিংস থামবে বেশি সময় লাগেনি। আর ৭ রান যোগ করার পর ইবাদত হোসেন ক্যাচ দেন মুজারাবানির বলে।
এই টেস্টে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে চরিত্র মাহমুদউল্লাহ। অথচ এই টেস্ট খেলারই কথা ছিল না তার। টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমে ছিলেন না তিনি। নাটকীয়ভাবে দলে এসে একাদশেও জায়গা করে নেন অলরাউন্ডার বিবেচনায়। আট নম্বরে নেমে ফেরার ম্যাচ উদযাপন করেন সেঞ্চুরিতে।
৪০৪ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চ থেকে ফিরে যোগ হলো আরও ৬৮ রান। তাতে দেড়শো স্পর্শ করলেন। টেস্টে তার এটিই সর্বোচ্চ ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১২৬ ওভারে ৪৬৮ (সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, মিরাজ ০, তাসকিন ৭৫, মুজারাবানি ৪/৯৪, এনগারাভা ১/৮৩, টিরিপানো ২/৫৮, নিয়াউচি ২/৯২, মেয়ার্স ০/১৩, শুম্ভা ০/৬৪, কাইয়া ০/৪৩)।