মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের বীরত্বে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ
শেষ দুই উইকেট নিয়ে আরও কিছু রান যোগ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম সেশনে উইকেটবিহীন পার করে দেওয়ার আশা নিশ্চয়ই নিজেরাও করেনি। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তাসকিন আহমেদের বীরত্বে সম্ভব হয়েছে সেটাই।
বৃহস্পতিবার হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন বাংলাদেশের কেটেছে স্বপ্নের মতোন। ৮ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে নেমে আর কোন উইকেট না হারিয়ে ৪০৪ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছে তারা। এদিন এক সেশনেই রান এসেছে ১১০ ।
নাটকীয়ভাবে টেস্ট দলে ফেরার ম্যাচে ১১২ রানে অপরাজিত আছেন মাহমুদউল্লাহ। টেস্ট তো বটেই যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি করে তাসকিন অপরাজিত আছেন ৫২ রানে।
অথচ এই টেস্টে খেলার কথাই ছিল না মাহমুদউল্লাহর। জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম ঘোষিত স্কোয়াডে নাম ছিল না তার। আচমকা তাকে নেওয়া হয় দলে। একাদশে আসাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মাত্র দুই পেসার রেখে তাকে জায়গা দিতে এক বোলার কম নিয়ে নয় ব্যাটসম্যান নিয়ে নামে বাংলাদেশ।
আট নম্বরে তাই ব্যাট করার সুযোগ পান মাহমুদউল্লাহ। আগের দিন ক্রিজে গিয়ে থিতু হতে সময় নিয়েছিলেন। থিতু হয়েই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলেছেন। জিম্বাবুয়ের বোলাররা কোন চাপেই ফেলতে পারেননি তাকে। সপ্তম উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ১৩৮ রানের জুটি করেন তিনি। ৯৫ করে লিটন ফিরে যাওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম বলেই বিদায় নিয়েছিলেন।
তিনশোর আশেপাশেই গুটিয়ে যাওয়ার সব রকম বাস্তব অবস্থা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তাসকিনকে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক কাণ্ডই করে ফেলেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
১৭ মাস পর টেস্টে ফেরাটা উদযাপন করেছেন ১৯৫ বল স্পিনার রয় কাইয়াকে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে। টেস্টে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি।
সকালে কিছুটা জিম্বাবুয়ের আলগা বোলিং, কিছুটা বাজে ফিল্ডিং আর মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন বেশ খানিকটা দৃঢ়তায় সকালের প্রথম ঘন্টা দারুণভাবে পার করে দেয় বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহ তো আস্থার সঙ্গে খেলছিলেনই। তাসকিনকে পাওয়া গেছে পুরো ব্যাটসম্যানের ভূমিকা। অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভ করার নাগালে পেলেই ছাড়েননি। পার করেছেন সীমানা।
তাসকিনকে অবশ্য আউট করার সহজ সুযোগ পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ৩২ রানে থাকার সময় রিচার্ড এনগারাবার বলে স্লিপে তাসকিনের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন মিল্টন শুম্বা। প্রথম ঘণ্টায় কোন উইকেট হারিয়েই তাই বাংলাদেশ যোগ করে ফেলে মহা মূল্যবান ৫৫ রান।
দ্বিতীয় ঘণ্টাতে যেন আরও সাবলীল তারা। রান বেড়েছে অনায়াসে। ব্লেসিং মুজারাবানি আর এনগারাবা ছাড়া সমস্যায় ফেলতে পারছিলেন না কেউ। জিম্বাবুয়ের বোলারদের লাগামহীন বোলিংও চাপ তৈরিই করতে পারেনি। যোগ হয় আরও ৫৫ রান। সবচেয়ে বড় কথা উইকেট পড়েনি একটিও।
এই টেস্টে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৩২ রানে ফিরে গিয়েছিলেন ৬ ব্যাটসম্যান। এরপর সাত নম্বরে লিটনের ৯৫, আটে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির পর দশ নম্বরে তাসকিনের ফিফটিতে অন্য গল্প লিখে ফেলল বাংলাদেশ।
চরম কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশই এখন শক্ত অবস্থানে। হারারেতে এই প্রথম যে চারশো ছাড়িয়ে গেছে দলের রান। স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকেই তাই ম্যাচ বাঁচাতে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
(দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১০৭ ওভারে ৪০৪/৮ (সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ১১২*, মিরাজ ০, তাসকিন ৫২*, মুজারাবানি ৩/৭৩, এনগারাভা ১/৬৯, টিরিপানো ২/৫১, নিয়াউচি ২/৮২, মেয়ার্স ০/১৩, শুম্ভা ০/৫৩, কাইয়া ০/৪৩)।