মোস্তাফিজকে গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্তিক ভারত দলে ফেরার আশায়

স্পোর্টস ডেস্ক

নিজের প্রথম তিন ওভারে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের। উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিয়েছিলেন ২০ রান। কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ইনিংসের ১৮তম ওভারে এলোমেলো হয়ে গেলেন তিনি। তাকে কচুকাটা করে ছয় বলেই বাউন্ডারি আদায় করে দিনেশ কার্তিক তুললেন ২৮ রান! দিল্লি ক্যাপিটালসের বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজকে গুঁড়িয়ে দেওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার স্বপ্ন দেখছেন ভারত দলে ফেরার।

এবারের আইপিএল শুরুর আগেও কার্তিক বলেছিলেন, তিনি আশায় আছেন জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের। এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে তার যে পারফরম্যান্স তাতে নিঃসন্দেহে তার স্বপ্নের পারদ ছুঁয়েছে আকাশ। ৬ ম্যাচে ৫ ইনিংসে ব্যাট করে তিনি আউট হয়েছেন মোটে একবার। ২০৯.৫৭ স্ট্রাইক রেটে তার রান ১৯৭। আসরে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরির স্বাদ কার্তিক পান আগের দিন শনিবার। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৩৪ বলে করেন অপরাজিত ৬৬ রান। সমান ৫টি করে চার ও ছক্কায় বিধ্বংসী ইনিংসটি সাজান তিনি। দিল্লির বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর ১৬ রানের জয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও বগলদাবা করেন তিনি।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারের পর ভারতের জার্সিতে আর দেখা যায়নি কার্তিককে। বেঙ্গালুরু-দিল্লি ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, দলে ফেরার লক্ষ্যপূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, 'আমাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে আমার বড় একটি লক্ষ্য রয়েছে। আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য হলো, দেশের জন্য স্পেশাল কিছু করা। এটা আমার অভিযানের একটি অংশ। ভারত দলের অংশ হওয়ার জন্য আমি সবকিছুর চেষ্টা করে যাচ্ছি।'

গত বছরের নভেম্বরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া এবি ডি ভিলিয়ার্স ছিলেন বেঙ্গালুরুর আইপিএল স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দক্ষিণ আফ্রকার এই কিংবদন্তির অনুপস্থিতির সঙ্গে দলটি কীভাবে মানিয়ে নেয় তা নিয়ে আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। তারা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন উত্তর। চলমান আসরে ভিলিয়ার্সের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের শূন্যতা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন কার্তিক। আক্রমণাত্মক ঢঙে খেললেও মাথা ঠাণ্ডা রাখার কথা জানান তিনি, 'এটা জেনে ভালো লাগে যে লোকেরা আমার মধ্যে একটা শান্ত ভাব খুঁজে পায়। আমার অবস্থান ও শান্ত ভাবের উৎস হলো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি।'

দলে ফিরতে মরিয়া কার্তিকের সবশেষ ম্যাচে জ্বলে ওঠা অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের দুঃখ দিয়েছে। মোস্তাফিজের শেষ ওভারের শুরুতে ২০ বলে ২৪ রানে স্ট্রাইকে ছিলেন তিনি। ওই ওভারের শেষ ডেলিভারিতে কার্তিক ফিফটি স্পর্শ করেন, মাত্র ২৬ বলে। মোস্তাফিজের ছয় বল থেকে আসে যথাক্রমে ৪, ৪, ৪, ৬, ৬ ও ৪।