ম্যাকডোনাল্ডকেই প্রধান কোচের পাকা দায়িত্ব দিল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

গত ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জাস্টিন ল্যাঙ্গার। এরপর থেকে এতদিন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। অবশেষে দুই মাসের বেশি সময়ের ব্যবধানে তাকে পাকাপাকিভাবে নিযুক্ত করা হলো। আগামী চার বছরের জন্য অ্যারন ফিঞ্চ-প্যাট কামিন্সদের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করবেন তিনি।

বুধবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ৪০ বছর বয়সী ম্যাকডোনাল্ডকে পূর্ণকালীন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজেদের স্বীকৃত পেজে তারা লিখেছে, 'চার বছরের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড!'

ক্রিকেটকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচায়ক বলা হলে ভুল হবে না। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যেকোনো কাজ দেশটির সর্বস্তরে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। তাই প্রধান কোচের দায়িত্বকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাবেক অজি টেস্ট অলরাউন্ডার ম্যাকডোনাল্ডকে এসব মাথায় রেখেই শিষ্যদের শেখানো-পড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

সিএ সবুজ সংকেত দেওয়ার পর উচ্ছ্বসিত ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'সামনে থাকা উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে (অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের) এই অবিশ্বাস্য সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। আমার পরিকল্পনা হলো এই দলটির সঙ্গে খেলার ভেতরে ও বাইরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি স্কোয়াডের উন্নতি করা, গভীরতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ানো।'

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী জুনে। তার এই চুক্তির মেয়াদ স্বল্প আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেটা প্রত্যাখ্যান করে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন দলটির সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।

ল্যাঙ্গারের বিদায়ের আগে তার ওপর ক্রিকেটারদের অসন্তুষ্টির খবর প্রকাশ পেয়েছিল। নাম প্রকাশ না করে অনেকেই তার কোচিং কৌশলের কঠোরতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে। বিপরীতে, ম্যাকডোনাল্ড অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালনকালেই কুড়িয়েছেন প্রশংসা। কিছুদিন আগে তার গুণগান গেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলনেতা ফিঞ্চ।

ম্যাকডোনাল্ড ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে ছিলেন তিনি। শিষ্যদের নিয়ে সামনে তাকে শ্রীলঙ্কা ও ভারত সফরে যেতে হবে। তার অধীনে চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে অজিরা।