রকিবুল-নাসিরের ঘূর্ণিতে প্রাইম ব্যাংকের কাছে বিধ্বস্ত আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রানের ফুলঝুরি ছোটাতে থাকা এনামুল হক বিজয়ের ফিফটি ও বাকিদের সম্মিলিত অবদানে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। লক্ষ্য তাড়ায় ন্যূনতম লড়াইও করতে পারল না তারকাখচিত আবাহনী লিমিটেড। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ও অফ স্পিনার নাসির হোসেনের ঘূর্ণির জবাব দিতে না পেরে অল্প রানে গুটিয়ে গিয়ে বিধ্বস্ত হলো তারা। বাজে এই হারে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের শিরোপার স্বপ্নে লাগল জোর ধাক্কা।

সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের ম্যাচে ১৪২ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৩ রান তোলে তারা। জবাবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় জুটি গড়তে না পারার খেসারত দিয়ে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ৩২.৪ ওভারে অলআউট হয় মাত্র ১৩১ রানে।

বল নিচু হয়ে যাওয়ায় উইকেট থেকে স্পিনারদের মেলে বাড়তি সহায়তা। সেটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা ঘোরান ছড়ি। আবাহনীর ১০ উইকেটের সবকটি পড়েছে স্পিন বোলিংয়ের বিপরীতে। রাকিবুল ৬ ওভারে ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট। নাসির ১০ ওভারে সমানসংখ্যক উইকেট শিকার করেন ৩৩ রান দিয়ে। ২ উইকেট করে নেন শেখ মেহেদী হাসান ও তাইজুল ইসলাম।

১১ ম্যাচে চতুর্থ হারের স্বাদ পাওয়া আবাহনীর পয়েন্ট ১৪। প্রাইম ব্যাংকের নামের পাশেও রয়েছে সমান পয়েন্ট। ২০ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে আছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দুইয়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অর্জন ১৬ পয়েন্ট।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী রাকিবুলের তোপের মুখে পড়ে শুরুতেই দিশেহারা হয়ে যায় আবাহনী। সপ্তম ওভারে ২০ রানের মধ্যে তারা হারায় ৩ উইকেট। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার জাকের আলী অনিক। তখনও রানের খাতা খোলা হয়নি দলটির। রাকিবুলের পরের ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত পড়েন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। এরপর উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দি হয়ে শ্রীলঙ্কার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা বিদায় নেন গোল্ডেন ডাক মেরে। আসরে এটি ছিল তার প্রথম ম্যাচ।

আফিফ হোসেনকে টিকতে দেননি শেখ মেহেদী। একপ্রান্ত আগলে থাকা লিটন দাস থিতু হলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩০ বলে ২৩ রান করে তিনি বোল্ড হন তাইজুলের ডেলিভারিতে। ফলে একাদশ ওভারে ৩৪ রানে পড়ে যায় আবাহনীর ৫ উইকেট। এই বিপর্যয় সামলে আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি তাদের।

সাতে নামা অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একাই চালান লড়াই। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। উইকেট পতনের মিছিল থাকে চালু। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ক্রিজে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে ৩০ বলে ১১ করে তাইজুলের শিকার হন। এরপর একে একে শামিম পাটোয়ারী, শহিদুল ইসলাম ও মোসাদ্দেককে তুলে নেন নাসির। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৭ বলে ৬৫ রান করেন মোসাদ্দেক। তানভীর ইসলাম শেখ মেহেদীর বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়লে থামে আবাহনীর দুর্দশা।

এর আগে শাহাদাত হোসেন দিপুকে নিয়ে ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে প্রাইম ব্যাংককে ভালো পুঁজির ভিত গড়ে দেন বিজয়। ৫১ বলে ৩৮ করে বিদায় নেন শাহাদাত। তিনে নেমে ফের হতাশ করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। ধনঞ্জয়াকে আগ্রাসী ঢঙে মারতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন বিজয়। ৮৫ বলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে তার রান ৭৭।

নাসির ও শামসুর রহমান শুভ রান না পেলেও সমস্যা হয়নি প্রাইম ব্যাংকের। মিঠুন ৫৯ বলে করেন ৪৪ রান। ইয়াসির আলী রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ৪৩ রান। শেখ মেহেদী অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৩৪ রানে। আবাহনীর পক্ষে ধনঞ্জয়া ৫৭ রানে ৩ ও সাইফউদ্দিন ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন।

সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৫৫ রানে জিতেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে তারা। জবাবে পুরো ওভার খেলে প্রতিপক্ষ পৌঁছাতে পারে ৯ উইকেটে ২৭০ রান পর্যন্ত। লিজেন্ডসের হয়ে ১১১ বলে সমান ৮ চার ও ছয়ে ১২৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন সাব্বির রহমান। তবে তাদের সংগ্রহ তিনশ ছাড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন ভারতের চিরাগ জানি। ৬৬ বলে ৪ চার ও ৭ ছয়ে ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। টাইগার্সের পক্ষে একাই লড়েন পাকিস্তানের সাদ নাসিম। তবে ১০৭ বলে ৯ চার ও ৪ ছয়ের সাহায্যে তার করা ১১৬ রান যায় বিফলে। লিজেন্ডসের পক্ষে নাবিল সামাদ ৫ উইকেট নেন ৪৭ রানে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ৭২ রানে জিতেছে লিগের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭১ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে তারা। জবাবে ৪৩.৫ ওভারে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স অলআউট হয় ১৯৯ রানে। শেখ জামালের হয়ে ভারতের পারভেজ রসুল ৬৪ বলে ৭৩, অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৭২ বলে ৭৩ ও ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি ৬৯ বলে ৫৮ রান করেন। পরে বল হাতেও আলো ছড়ান রসুল। অফ স্পিনে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ৪২ রানে সমানসংখ্যক উইকেট নেন পেসার ইবাদত হোসেনও। গাজীর পক্ষে ধ্রুব শোরে ৭৩ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন।