রাজার তোপে প্রাইম ব্যাংকের ১ রানের জয়
ব্রাদার্সের জয়টা তখন কেবল সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে। বল বাকি ১১টি। হাতে উইকেট ৩টি। সবচেয়ে বড় কথা উইকেটে তখন সেট আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। সেট আবু হায়দার রনিও। তখনই জ্বলে উঠলেন রেজাউর রহমান রাজা। ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে টানা দুই বলে দুটি উইকেট তুলে ম্যাচের মোর ঘুড়িয়ে দেন এ পেসার।
এক প্রান্তে রনি টিকে থাকায় তখনও আশা ছিল ব্রাদার্সের। কিন্তু অলক কাপালীর করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই সিঙ্গেল নেওয়াই ভুল হয়ে যায় তার। পরের পাঁচ বলে জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন হলেও তা করতে পারেননি শেষ ব্যাটার সুজন হাওলাদার। তিন বল খেলেই পড়েন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ জিতে নেয় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
বুধবার সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১ রানের ব্যবধানে হারায় সালাহউদ্দিনের শিষ্যরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৩ রান করে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে দুই বল বাকি থাকতে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই সাদিকুর রহমানকে হারায় ব্রাদার্স। দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান ইমতিয়াজ হোসেন। গড়েন ৪৪ রানের জুটি। তবে এ জুটি ভাঙলে রাজার বোলিং তোপে পড়ে তারা। ফলে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৩ রান যোগ করতে হারায় ৪টি উইকেট।
বড় চাপে থাকা দলকে টেনে তোলার চেষ্টা চালান বিপ্লব। ষষ্ঠ উইকেটে ধীমান ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে ৮৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। সপ্তম উইকেটে সোহাগ গাজীকে নিয়ে ৬৫ রানের আরও একটি জুটি গড়েন এ তরুণ। এরপর রনিকে নিয়ে কাজটা প্রায় শেষের দিকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তখনই ফের রাজার তোপে পড়ে দলটি। এক দূরেই থামতে হয় তাদের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংস খেলেন বিপ্লব। ৭৭ বলে ৪টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৭৩ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৫১ রান করেন ধীমান। দারুণ এক ক্যামিও খেলেন গাজী। মাত্র ২১ বলে ২টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ইমতিয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান। শেষ দিকে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন রনি।
প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৫৩ রানের খরচায় একাই ৫টি উইকেট নেন রাজা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে লড়াকু পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। সাহাদাত হোসেন দিপু, নাসির হোসেন ও শামসুর রহমান তিন জনই করেন ষাটোর্ধ রান। সর্বোচ্চ ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন নাসির। ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৭৭ বলে এ ইনিংস খেলেন তিনি। ৬৬ বলে ৯টি চারে ৬৪ রান করেন শাহাদাত। শুভর ব্যাট থেকে আসে ৫৯ বলে ৬০ রান।
ব্রাদার্সের পক্ষে ৫১ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান রনি। এছাড়া ২টি শিকার সুজনের।