রানের খোঁজে নয়, ম্যাচের মধ্যে থাকতে চেয়েছিলেন মুশফিক
টি-টোয়েন্টিতে লম্বা সময় ধরে রান খরায় থাকায় ছুটি উপেক্ষা করেও এ'কদিন চালিয়েছেন বাড়তি অনুশীলন। 'এ' দলের হয়ে বিসিবি এইচপি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে ছুটে গেছেন চট্টগ্রাম। সেখানে দুই ম্যাচে পেয়েছেন রানও। তবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান বলছেন, রানের খোঁজে নয় চট্টগ্রামে যাওয়ার মূল কারণ ছিল খেলার মধ্যে থাকা।
টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ২৫ ইনিংসে মুশফিকের ফিফটি কেবল একটি। এই সময়ে ১৬.৪৭ গড় আর ১০২.৪৭ স্ট্রাইকরেট দিচ্ছে তার হতশ্রী সময়ের ছবি। এই ফরম্যাটে তিন সিরিজ মিস করার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরেও করেন হতাশ। ৫ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে কেবল ৩৯ রান। গড় ১৩ আর স্ট্রাইকরেট মাত্র ৫২।
বিশ্বকাপের আগে তার ব্যাটে রানের দেখা পাওয়া ছিল খুব জরুরি। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে 'এ' দলের হয়ে দুটি ওয়ানডে খেলেছেন মুশফিক। প্রথমটিতে খেলেন ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৭০ রান। পরেরটিতে ৫২ বলে করেন ৬৩। প্রস্তুতির ব্যাপারে বরাবরই নিখুঁত থাকতে চাওয়া মুশফিকের বেশ ভালো প্রস্তুতিই হয়েছে বলা চলে।
শুক্রবার 'হাউ ইজ দ্যাট মুশফিক-দ্য ডিপেন্ডেবল' অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে অবশ্য তিনি জানান, রানের জন্য নয়, তার মাথায় ছিল ম্যাচ খেলার ঘাটতি পূরণ, 'আমার আসলে রানে খুব বেশি নজর ছিল না। ইচ্ছা ছিল ম্যাচের মধ্যে যেন থাকতে পারি। কারণ নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আমি শেষ ম্যাচ খেলেছিলাম প্রায় আড়াই-তিন মাস আগে। (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) টেস্টের পর চলে আসি পরিবারের কারণে। ম্যাচের মধ্যে না থাকলে ওই প্রতিযোগিতা, হাই ইন্টেন্সিটি বা প্রস্তুতিটা হয় না। যতই ব্যক্তিগত বা দলের সঙ্গে অনুশীলন করি না কেন, যতদিন ম্যাচ না খেলবেন আসল প্রস্তুতিটা হয় না।'
'এইচপি দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা অনেক ভালো…তো প্রতিযোগিতামূলক একটা পরিস্থিতি যেন তৈরি হয়, সেখানে যেন চাপ থাকে, সেই চাপটা যেন আমি কাজে লাগাতে পারি। এই একটা সুযোগ খুঁজছিলাম। ধন্যবাদ বিসিবিকে যে তারা এই সুযোগটা করে দিয়েছে এবং আমি দুটো ম্যাচ খেলেছি। কিছু সময় কাটাতে পেরেছি যেটা আমার প্রস্তুতির জন্য একটু হলেও কাজে দেবে।'
অভিজ্ঞ মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে এর আগে খেলেছেন সবগুলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার আরেকটি টুর্নামেন্টের আগে সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার চিন্তা তার, 'চার-পাঁচটা বড় টুর্নামেন্ট খেলেছেন, এমন একজনের ওপর অবশ্যই সবার প্রত্যাশা একটু চাপ সৃষ্টি করবে। সেভাবেই নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করি এবং দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় সেটা হয়ে ওঠে না, আবার অনেক সময় দলের জন্য যতটুকু দরকার তা দিতে পারি, যেটা খুব ভালো ব্যাপার। আশা করছি, বিশ্বকাপে আমি যেন সামনে থেকে পারফর্ম করতে পারি এবং দলের চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াই করতে পারি।'