লিটনের ৯৫, মাহমুদউল্লাহর দৃঢ়তার পরও দিনটা বাংলাদেশের নয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় নেমেছিলেন। দুশোর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তখন প্রবল। এমন পরিস্থিতি সামলে লিটন দাস সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও পুড়েছেন আক্ষেপে। অন্য দিকে ১৭ মাস পর টেস্টে ফিরে মাহমুদউল্লাহ সতর্ক পথে তুলেছেন ফিফটি। সপ্তম উইকেটে দুজনের শতরানের জুটিতে  বিপর্যয় সামাল দিলেও শেষ দিকে আবার দুই উইকেট হারিয়ে দিনটা নিজেদের করা হয়নি বাংলাদেশের।

বুধবার হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দুই সেশনে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও দিনশেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৯৪  রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ রান এসেছে লিটনের ব্যাটে। ৫৪ রান করে এখনো ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রথম দুই সেশনে তিনটি করে উইকেট হারিয়েছিল মুমিনুল হকের দল। অধিনায়ক মুমিনুল ছাড়া প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের কেউই রান পাননি। ব্লেসিং মুজারাবানির তোপে প্রথম দুই উইকেট পড়ে মাত্র ৮ রানে। ৬০ রানের একটি জুটির পর আউট হন সাদমান ইসলাম। দুবার জীবন পেয়ে মুমিনুল দ্বিতীয় সেশনে গিয়ে ফেরেন ৭০ রান করে। কিন্তু তার আগেই মুশফিকুর রহিম, আর সাকিব আল হাসানের উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

মুজারাবানির ভেতরে ঢুকতে থাকা বল ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। তবে রিভিউ না থাকায় তিনি নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। সাকিব ফেরেন দৃষ্টিকটু শটে। মাত্র ৫ বল টিকে ভিক্টর নিয়াউচির অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের নীরিহ এক বল তাড়া করে ধরা দেন উইকেটের পেছনে। মুমিনুল ৫২ ও ৬০ রানে দুবার ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর নিয়াউচিকে স্কয়ার কাট করে ক্যাচ দেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

এর আগে সকালের সেশনে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসান মুজারাবানির ভেতরে ঢোকা বলে হন বোল্ড। নাজমুল হোসেন শান্ত বেরিয়ে যাওয়া বল ফেস ওপেন করে ক্যাচ দেন গালিতে। রিচার্ড এনগারাভার বলে একইভাবে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে থামে সাদমানের অনেক সময় নিয়ে খেলা ২৩ রানের ইনিংস।

৬ উইকেট পড়ার পর লিটন-মাহমুদউল্লাহ যখন জুটি বাধেন বল তখন ৩৫ ওভার পুরনো। মেঘ কেটে সূর্যের দেখা পাওয়ায় ব্যাট করা হয়ে যায় অনেকটা সহজ। তবে নিজেদের তৈরি করা চাপটাও রাখতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। আলগা বল দিয়ে বেশ কিছু সহজ রান দিয়ে দেয় তারা।

পেসারদের আক্রমণ থেকে সরিয়ে লম্বা একটা সময় অনিয়মিত স্পিনার মিল্টন শুম্বা আর রয় কাইয়াকে দিয়ে বল করিয়েছেন ব্র্যান্ডন টেইলর। এই দুই স্পিনারের বল লিটন-মাহমুদউল্লাহর কাছে ছিল অনেকটা ডালভাত।

লিটন ক্রিজে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। নিজের ধরণ অনুযায়ী দৃষ্টিনন্দন সব শটে রান বাড়িয়েছেন তিনি লম্বা সময় পর ফেরায় মাহমুদউল্লাহর থিতু হতে লেগেছে সময়। থিতু হয়েও বাড়তি সতর্কভাবে ব্যাট চালিয়েছেন তিনি।

দুজনের জুটি জমে যাওয়ায় ম্যাচেও ফিরে আসে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ বোলারদের কোন সুযোগ না দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের খেলায়। মনে হচ্ছিল আর কোন উইকেট না হারিয়েই বাকি দিন পার করে দেবে বাংলাদেশ।

কিন্তু ক্যারিয়ারে আরও একবার সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে গড়বড় হয়ে যায় লিটনের। ডোনাল্ড টিরিপানোর সাধারণ এক বল পুল করে উড়াতে গিয়ে পুরো ব্যাটে নিতে পারেননি। ক্যাচ যায় ফাইন লেগে। ১৪৭ বলে ১৩ চারে লিটন ৯৫ করে আউট হলে ভাঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি।

ঠিক পরের বলেই মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লিউর শিকার হন টিরিপানোর। দ্রুত দুই উইকেট পড়ার পর টেল এন্ডারদের নিয়ে লড়াইয়ের পরিস্থিতি দাঁড়ায় মাহমুদউল্লাহর।

নতুন বল হাতে নিয়ে ফিফটির আগেই ফিরতে পারতেন তিনি। মুজারাবানির বল তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে কিপারের পাশ দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে। পঞ্চাশতম টেস্টে ১৩৩ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান এই ডানহাতি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ আর কত রান করতে পারবে নির্ভর করছে মাহমুদউল্লাহর উপরই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(প্রথম দিন শেষে)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৩ ওভারে ২৯৪/৮ (সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ৫৪*  , মিরাজ ০, তাসকিন ১৩*, মুজারাবানি ৩/৪৮, এনগারাভা ১/৩৬, টিরিপানো ২/৩৬, নিয়াউচি ২/৬৯, মেয়ার্স ০/৫৩, শুম্ভা ০/২৭)।