শামিমের তাণ্ডবের পর সানির ঘূর্ণিতে প্রথম জয় আবাহনীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তৌহিদ হৃদয় যখন আউট হন, তখন দলটির সংগ্রহ ১৩৮ রান। প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে। তখন দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আবাহনী লিমিটেড। সেখান থেকে জাকের আলীকে নিয়ে ঝড়ো এক সেঞ্চুরি তুলে শামিম পাটোয়ারি দলকে এনে দিলেন বিশাল পুঁজি। এরপর আরাফাত সানি বেছালেন ঘূর্ণির মায়াজাল। তাতেই প্রথম জয় পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সোমবার সাভারের বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচে সিটি ক্লাবকে ১১১ রানে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩০৯ রান সংগ্রহ করে দলটি। জবাবে ৪২ ওভারে ১৯৮ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় নবাগত সিটি ক্লাব।

লক্ষ্য তাড়ায় সিটি ক্লাবের শুরুটাই ভালো ছিল না। আরাফাত সানির ঘূর্ণি জালে পড়ে দলীয় ৩৪ রানেই প্রথম সারির চার উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। এরপর পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন আশিক উল আলম নাঈম ও মইনুল ইসলাম সোহেল। গড়েন ১১৬ রানের জুটি। তাতে চ্যাম্পিয়নদের হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দলটি।

এ জুটি ভাঙেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর আর পিছে তাকাতে হয়নি আবাহনীকে। তার সঙ্গে জ্বলে ওঠেন বাকি বোলাররাও। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সিটির ব্যাটিং লাইন আপ। স্কোরবোর্ডে আর ৪৫ রান যোগ করতেই বাকি ছয়টি উইকেট হারায় তারা। ফলে বড় হার মেনে নিতে বাধ্য হয় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন সোহেল। ৭১ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৯৪ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৭ রান করেন আশিক। আবাহনীর পক্ষে ৩৩ রানের খরচায় একাই ৫টি উইকেট নেন আরাফাত সানি। ২টি শিকার সাইফউদ্দিনের। 

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আবাহনীর। শুরুতেই ফিরে যান মুনিম শাহরিয়ার। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামলে নেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ নাঈম শেখ। গড়েন ৭৭ রানের জুটি।

তবে আবাহনীকে বড় সংগ্রহের পুঁজিটা জাকের আলী অনিককে নিয়ে গড়ে দেন শামিম। ষষ্ঠ উইকেটে ১২৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৭১ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। এক প্রান্তে ঝড় তুলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন শামিম। ৬৩ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করা এ ব্যাটার নিজের ইনিংসটি ৬৬ বলে সাজান ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে।

জাকের শুরুতে দেখে শুনে ব্যাট করলেও রানের গতি সচল রাখেন শামিম। তবে পরে শামিমের সঙ্গে আগ্রাসনে যোগ দেন জাকেরও। শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। ৫৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করা এ ব্যাটার নিজের ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন।

এছাড়া হৃদয় ৪৬ ও নাঈম ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। সিটি ক্লাবের পক্ষে ৩৩ রানের খরচায় ২টি উইকেট নেন জাওয়াদ রোয়েন।