সাকিব-মাশরাফিদের ছাপিয়ে রূপগঞ্জের নায়ক মুক্তার
সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব আল হাসান যখন ফিরে যাচ্ছেন, ম্যাচ জিততে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চাই আরও ৬৯ রান। তানবীর হায়দারকে নিয়ে দারুণ এক জুটিতে কঠিন সে সমীকরণ মেলালেন মুক্তার আলি। সাকিব, মাশরাফি বিন মর্তুজাদের মতো বড় তারকাদের ভিড় থেকে বেরিয়ে দলকে জিতিয়ে নায়ক বনলেন তিনি।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বৃষ্টির কারণে ৩৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৫২ রানে অলআউট হয়েছিল তামিম ইকবালদের প্রাইম। দুই বল আগে ছক্কা মেরে তাদের রান পেরিয়ে দলকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন মুক্তার।
ডানহাতি এই অলরাউন্ডার ২ চার, ২ ছক্কায় ৪৫ বলে করেন ৩৯ রান। তার সঙ্গে অপরাজিত থাকা তানবীর করেন ৩৯ বলে ৩১।
অলরাউন্ডার হলেও এই ম্যাচে বল হাতে পাননি মুক্তার। ব্যাট করতে নেমেছিলন ৯ নম্বরে। তখন দলের আশা অনেকটা নিভু নিভু। তানবীরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে পরে মাত করেন তিনি।
বিশেষ করে শেষ দুই ওভারে তার ব্যাটিং গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ১২ বলে দরকার ছিল ২১ রানের। রেজাউর রহমান রাজার করা ৩২তম ওভারে মুক্তার মারেন দুই বাউন্ডারি, সিঙ্গেল আসে আরও তিনটি। শেষ ওভারে ৯ রান দরক্র হলে প্রথম বলে এক রান নিয়েছিলেন মুক্তার। তানবীর পরে আরেকটি সিঙ্গেলে তাকে দেন স্ট্রাইক। পরের বলে মুক্তার নেন দুই রান। চতুর্থ বলটা লং অন দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে আনন্দে ভাসেন তিনি।
১৫৪ রানের লক্ষ্য নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল লিজেন্সরা। ২০ রানেই ফেরেন দুই ওপেনার। তিনে নেমে সাব্বির রহমান ২৭ বলে থামেন ২৬ করে। ছন্দে থাকা নাঈম এদিন ব্যর্থ। তিনি ফেরেন ৭ বলে ৫ করে। ৪২ রানে ৪ উইকেট হারায় লিজেন্ডস। ভারতীয় চিরাগ জানি থিতু হওয়ার আগে ফিরে যান। অধিনায়ক মাশরাফিও ব্যাট হাতে কিছু করতে পারেননি।
একমাত্র ভরসা হয়ে টিকেছিলেন সাকিব। এই অলরাউন্ডার ৩৪ বলে ২১ করে কাটা পড়েন তাইজুল ইসলামের সরাসরি থ্রোতে। ম্যাচ প্রাইমের দিকে হেলে গিয়েছিল অনেকটা, সেখান থেকে টেনে তুলে নায়ক বনলেন মুক্তার।
এর আগে বৃষ্টিভেজা মাঠে তিন ঘন্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে সাকিব, মাশরাফিদের দারুণ বোলিংয়ে বিপাকে পড়ে প্রাইম। প্রিমিয়ার লিগে নেমে ৫ বলে ৮ করে সাকিবের শিকার হন তামিম। টপ অর্ডারদের বাকিদের ব্যর্থতায় ফের দলকে টানেন এনামুল হক বিজয়। তার ৯১ বলে ৭৩ ও ইয়াসির আলির ৩৭ বলে ৩৯ রানে দেড়শো ছাড়ানো পুঁজি পেয়েছিল প্রাইম। সেই পুঁজি নিয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েও পরে আর পারেনি তারা।
এই জয়ে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জেতার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল মাশরাফির দল। অন্যদিকে ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট পাওয়া প্রাইম শিরোপা রেস থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে।