সোহানের ব্যাটে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল
দলীয় ৭৮ রানেই প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে। তখনও লক্ষ্য বহুদূর। ঠিক তখনই দলের ত্রাতা হয়ে আসলেন নুরুল হাসান সোহান। সঙ্গী হিসেবে পেলেন কাশ্মীরি ক্রিকেটার পারভেজ রসুল ও জিয়াউর রহমানকে। শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তাতে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শিরোপায় চুমু খায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৯ রান সংগ্রহ করে আবাহনী। জবাবে ১৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় শেখ জামাল।
তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে বড় শঙ্কাই তৈরি হয়েছিলে শেখ জামালের। এদিন হারলে শেষ রাউন্ডে কাজটা কঠিন হয়ে যেত দলটির। দিনের অপর ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ১৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তাদের চাপে রেখেছিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। তবে কোনো অঘটন ঘটতে দেননি সোহান। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে দলকে এনে দেন অনন্য এক জয়। তাতে শিরোপা নিশ্চিত হয় দলটির।
লক্ষ্য তাড়ায় আবাহনীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শেখ জামাল। অথচ প্রায় সব ব্যাটারই উইকেটে সেট হয়েছিলেন। ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর পারভেজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সোহান। গড়েন ৭২ রানের দারুণ এক জুটি। এরপর পারভেজ আউট হলে বাকি কাজ জিয়াকে নিয়ে শেষ করেন সোহান। অবিচ্ছিন্ন ৮২ রানের জুটি গড়েন তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রানের ইনিংস খেলেন সোহান। ৮১ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ২৬ বলে ৩৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন জিয়া। নিজের ইনিংসটি সাজান ৪টি চার ও ২টি ছক্কায়। ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন পারভেজ। আবাহনীর পক্ষে ৩৬ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট পান সাইফউদ্দিন।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৫ রানেই প্রথম সারির তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আবাহনী। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তৌহিদ হৃদয়। গড়েন ৫০ রানের জুটি। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে ৩০ ও জাকের আলী অনিকের সঙ্গে ৩৯ রানের আরও দুটি জুটি গড়ে আউট হন তৌহিদ। তবে আবাহনীকে লড়াইয়ে পুঁজি এনে দেন সাইফউদ্দিন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জাকের আলীর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটি গড়েন এ অলরাউন্ডার।
৩৩ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন সাইফউদ্দিন। তাতে ৫টি ছক্কা মারেন তিনি। ৭০ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন জাকের আলী। তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তৌহিদ। ৭৫ বলে ৪টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। আফিফ খেলেন ২৯ রানের ইনিংস। শেখ জামালের পক্ষে ২টি উইকেট পান জিয়া।