সোয়েপসনের ঘূর্ণিতে এবার বাংলাদেশের মামুলি পুঁজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিরিজ জিতে যাওয়া বড় এক স্বস্তি নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাট করতে যেতেই সেই অস্বস্তি হাওয়া। আগের সব ম্যাচ থেকে এই ম্যাচেও ব্যাটসম্যানরা ভুগলেন সবচেয়ে বেশি। ধুঁকতে ধুঁকতে কোনমতে একশো পার হলো বাংলাদেশ।

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৪ রান করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তির কারণ এই ম্যাচে একাদশে আসা লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসন।

আগের তিন ম্যাচের চেয়ে এদিন কিছুটা ভালো শুরু এনেছিলেন ওপেনাররা। ধুঁকতে থাকা সৌম্য সরকার এবার পেয়েছিলেন প্রথম ছক্কা। কিন্তু ইনিংসটাকে টানতে পারলেন না বাজে শটে। জশ হ্যাজেলউডের বলে মিড উইকেট দিয়ে ঘুরাতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ক্যাচ দেন কাভারে।

২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে নেমে সাকিব আল হাসানও ছিলেন অস্বস্তিতে। বল ব্যাটে না আসায় যথারীতি। পাওয়ার প্লেতে আসে ৩০ রান।

অস্বস্তি থেকে সাকিব আর বের হতেই পারেননি। হ্যাজেলউডের দ্বিতীয় স্পেলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ২৬ বলে ১৫ রান করে কাটা পড়েন। দ্বিতীয় উইকেটেও আসে ২৪ রান। তখন কে জানত প্রথম এই ২৪ রানের জুটিই পুরো ইনিংসের সবচেয়ে বড় হতে যাচ্ছে।

সাকিবের বিদায়ের খানিক পরই বিপদ আরও বাড়িয়ে মাহমুদউল্লাহর ফিরে যান। সোয়েপসনের লেগ স্পিনে স্লগ সুইপ খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা বাংলাদেশ অধিনায়ক, এবার কোন রানই করতে পারেননি তিনি। পরের বলেই সোয়েপসনের গুগলিতে পরাস্ত হয়ে বিদায় নুরুল হাসান সোহানের। আম্পায়ার আউট না দিলেও  রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।

উইকেট পতনের মাঝে এক প্রান্তে টিকে ছিলেন নাঈম। কিন্তু দ্রুত রান আনা তার পক্ষেও সম্ভব ছিল না। ইনিংসের ১৫তম ওভারে সোয়েপসনের শিকার তিনিও। আগের বলেই এলবিডব্লিউ থেকে কোনরকমে বেঁচে যাওয়ার পর স্লগ সুইপ করে আকাশে ক্যাচ উডিয়ে বিদায় নেন ৩৬ বলে ২৮ করা নাঈম।

আফিফ হোসেন ছয়ে নেমে এদিনও ছিলেন অন্যদের চেয়ে বেশি সাবলীল। তবে রান বাড়ানোর তাড়ায় থামতে হয় তাকে। ১ ছক্কায় ১৭ বলে ২১ করা আফিফ ক্যাচ দেন অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে। একশো পার হওয়া নিয়েই তখন বাংলাদেশের টানাটানি।

শেখ মেহেদীর ১৬ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে অবশ্য সেই কাজটা হয়েছে। তবে মন্থর উইকেটেও  এই রান ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট নয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ:  ২০ ওভারে ১০৪/৮ (নাঈম  ২৮, সৌম্য  ৮, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ০, সোহান ০, আফিফ ২১, শামীম ৩,  শেখ মেহেদী  ২৩, নাসুম  ২*, শরিফুল ০   ;  টার্নার  ০/২২ , হ্যাজেলউড ২/২৪, অ্যাগার ১/২২, টাই ৩/১৮, সোয়েপসন ৩/১২ হেনরিকস ০/৫  )