অডিট অধিদপ্তরকে নথি দিতে জাবি প্রশাসনের গড়িমসি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দ্বিতীয় মেয়াদের ২০১৭-১৮ থেকে ২০২০-২১ সেশনের সব ধরনের আর্থিক বিষয়ের নথি চেয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর।

তলব করা খাতগুলোর কয়েকটিতে আংশিক নথি দেওয়ায় পূর্ণাঙ্গ নথি দিতে আজ বৃহস্পতিবার আবারো প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা অডিট অফিসার।

শিক্ষা অডিট বিভাগের নিরীক্ষা দলের প্রধান মো. বাবুল হোসেনের সই করা চিঠিতে রুটিন দায়িত্বে থাকা জাবি উপাচার্য বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, 'আপনার অফিসের ২০১৭-১৮ হতে ২০২০-২১ অর্থ বছরের পুনঃনিরীক্ষা ২০/০৩/২২ হতে ২৪/০৩/২২ সময়ে সম্পাদনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নোক্ত নথি পত্রসমূহ নিরীক্ষায় উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অদ্যাবধি আংশিক নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় নিম্নোক্ত নথিপত্র জরুরি ভিত্তিতে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হলো।'

গত ২০ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দ্বিতীয় মেয়াদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের আর্থিক বিষয়ের তথ্য তলব করে উপাচার্যের বরাবর চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর।

পাশাপাশি ফারজানা ইসলামের ২ কোটি টাকা 'ঈদ সালামি' দেওয়াসহ টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সব ফাইল তলব করা হয়।

সেসময় রেজিস্ট্রার দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অডিটের স্বার্থে এ সব নথি ও ফাইল তলব করা হয়েছে। ২৪ মার্চের মধ্যে এগুলো পাঠাতে বলা হয়েছে।

এসব নথি ও তথ্যের মধ্যে আছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ব্যাংক জমা, স্থায়ী-অস্থায়ী আমানতের তালিকা ও ব্যাংক বিবরণী, সব ব্যাংকের জমা-খরচের প্রতিবেদন, চেক রেজিস্টার ও চেক বই, পদোন্নতি ও অবসর অনুমোদন প্রতিবেদন, পেনশন ভাউচার, সেশন বেনিফিট সংক্রান্ত নথি, সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের একান্ত সচিবসহ ৫ জনের অ্যাডহক নিয়োগ নথি ও তাদের ব্যক্তিগত নথি, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ঈদ সালামি দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন, উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী, উন্নয়ন প্রকল্পের ৬টি কাজের উন্মুক্ত দরপত্র নথি ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন, ২০১৯-২০ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের ভর্তি পরীক্ষার নথি ও পরীক্ষার পারিশ্রমিক বণ্টন প্রতিবেদন।

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রধান প্রকৌশলী, কম্পট্রোলার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, জনসংযোগ অফিসার ও ডিন নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত নথিসহ ২০২৭-১৮ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ও বার্ষিক হিসাবও চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নতুন চিঠিতে ৯টি খাতের বিবরণ ও অডিট প্রতিষ্ঠানের জবাব দেখা যায়। যার মধ্যে ক্রমিক নম্বর (২) পদোন্নতি ও অবসর অনুমোদন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিসমূহ, (৩) সেশন বেনিফিট প্রদান সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত নথি এবং (৭) ভারপ্রাপ্ত রেজ্রিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রধান প্রকৌশলী, কম্পট্রোলার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, জনসংযোগ অফিসার ও ডিন নিয়োগ নথি ও তাদের ব্যক্তিগত নথি- এই তিনটি খাতে অডিট প্রতিষ্ঠান আংশিক তথ্য পেয়েছে বলে জানায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ কল ধরেননি।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, 'আমি এখন অফিসের বাইরে আছি। এমন চিঠি এসেছে কি না বলতে পারছি না।'