ন্যাটোর ‘গুরু’ ট্রাম্প কি জোট ছাড়ার ক্ষমতা রাখেন?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা দেশটির মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটোবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে সেই তালিকা। তবে প্রশ্ন—ন্যাটোর ‘গুরু’ মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি কি জোট ছাড়ার ক্ষমতা রাখেন?

রিপাবলিকান সিনেটর ও সাবেক সিনেট নেতা মিশ ম্যাককনেল ও অপর রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিস ন্যাটো থেকে সরে আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। তাদের দ্বিমতের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান দলে ট্রাম্প-বিরোধীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হলো।

রিপাবলিকান নেতা মিশ ম্যাককনেল ও ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস কুনস। ছবি: সংগৃহীত  

 

গত ২ এপ্রিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—১ এপ্রিল মার্কিন সিনেটের প্রতিরক্ষা বরাদ্দ উপকমিটির সদস্য রিপাবলিকান নেতা মিশ ম্যাককনেল ও ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস কুনস ট্রাম্পের ন্যাটো-মন্তব্য নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

তাতে তারা বলেছেন, ‘মার্কিনদের পক্ষ নিয়ে ন্যাটোর সেনারা আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ করেছে। তারা জীবন দিয়েছে। তাদের অতীতের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যতের আত্মত্যাগের জন্য মিত্রদের প্রতিজ্ঞাকে হালকাভাবে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না।’

ন্যাটো জোটের সেনা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো জোটের সেনা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত 

 

এই দুই মার্কিন নেতার মতে—ন্যাটো জোট নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। জোটের জন্মের শুরু থেকেই।

ন্যাটো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে মার্কিনিরা আরও নিরাপদে থাকবে, বলেও মনে করেন তারা।

মাকির্নিদের স্বার্থে মিত্রদের নিয়ে এই ‘একতা’র যত্ন নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন এই দুই শীর্ষ রাজনীতিক।

এর আগের দিন ট্রাম্পের ন্যাটো-বক্তব্যের বিরোধিতায় যোগ দেন সিনেটের ন্যাটো পর্যবেক্ষণ দলের দুই সহ-সভাপতি—রিপাবলিকান টম টিলিস ও ডেমোক্র্যাট জেনি শাহিন। তারাও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিনিদের ওপর যখন আঘাত এসেছে ন্যাটো তখন আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়েছে।’

সিনেটের ন্যাটো পর্যবেক্ষণ দলের দুই সহ-সভাপতি—ডেমোক্র্যাট জেনি শাহিন ও রিপাবলিকান টম টিলিস। ছবি: সংগৃহীত
সিনেটের ন্যাটো পর্যবেক্ষণ দলের দুই সহ-সভাপতি—ডেমোক্র্যাট জেনি শাহিন ও রিপাবলিকান টম টিলিস। ছবি: সংগৃহীত

 

‘টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ন্যাটো মার্কিনিদের সহায়তা করেছে’ উল্লেখ করে তারাও জোট-বাহিনীর আত্মত্যাগ নিয়ে রিপাবলিকান ম্যাককনেল ও ডেমোক্র্যাট কুনসের সুরে কথা বলেছেন।

তারা এও মনে করেন যে, কোনো মার্কিন রাষ্ট্রপতি ন্যাটো থেকে নিজেদের তুলে নিলে তা রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বিশাল স্বপ্ন পূরণ করবে।

এ ছাড়াও, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

 

ন্যাটো ‘কাগুজে বাঘ’?

 

অনেক বিশ্লেষকের ভাষ্য—ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথার ওপর ভরসা রাখা মুশকিল। তিনি একেক সময় একেক কথা বলেন। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক জোট নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।

শেষমেশ, ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট থেকে নিজ দেশকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বসেছেন।

হেগে নেদারল্যান্ডের রাজা-রানীর সঙ্গে ন্যাটো জোটের নেতারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স (২০২৫)
হেগে নেদারল্যান্ডের রাজা-রানীর সঙ্গে ন্যাটো জোটের নেতারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স (২০২৫)

 

কিন্তু, প্রশ্ন থেকে যায়—ট্রাম্পের এমন হুমকি কি ‘লোক দেখানো’? নাকি তিনি ন্যাটো থেকে বেরিয়ে এসে নতুন এক বৈশ্বিক বাস্তবতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন? বা তিনি কি আদৌ ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা রাখেন?

গত ১ এপ্রিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অপর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—ট্রাম্প কি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনতে পারেন? তিনি এমনটি ভাবছেনই বা কেন?

এতে জানানো হয়—ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। এই সামরিক জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ‘ভেবে দেখার দিন শেষ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের এসইউভি গাড়ি নিয়ে গলফ ক্লাবে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
নিজের এসইউভি গাড়ি নিয়ে গলফ ক্লাবে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স 

 

ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন—ইরান যুদ্ধে কোনো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কার্যত অচল হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালিকে রক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলো এগিয়ে আসছে না।

অর্থাৎ, ইউরোপ সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসে; অথচ যুক্তরাষ্ট্র সমস্যায় পড়ার পরও ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষায় মোটেও এগিয়ে আসছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা হচ্ছে—আফগানিস্তানে দীর্ঘ যুদ্ধে ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিল।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ‘চরম ধাক্কা’

 

ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ‘চরম ধাক্কা’ বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমের সমরবিদরা। দ্য গার্ডিয়ানের কাছে তারা এমন মন্তব্য করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—১৯৮৯ পর্যন্ত শীতল যুদ্ধে ন্যাটো টিকে ছিল। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শীতল যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে স্পষ্ট দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছিল।

এস্তোনিয়ার তাপা সামরিক ঘাঁটিতে ন্যাটোর পতাকা উড়ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স (২০২৩)
এস্তোনিয়ার তাপা সামরিক ঘাঁটিতে ন্যাটোর পতাকা উড়ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স (২০২৩)

 

ন্যাটো-মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী সরবরাহ করে?—এ সম্পর্কে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—সবচেয়ে বড় কথা, এটি পরমাণু শক্তিধর একাধিক দেশের জোট। বিশ্বশক্তি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়াও, ইউরোপজুড়ে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে।

এসব মার্কিন ঘাঁটির কারণে মূলত শত্রুদেশগুলো ইউরোপে সামরিক হামলা থেকে দূরে থাকে বলেও প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়।

তবে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প কি শুধু মুখের কথায় এত বড় সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন?—এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ান জানায়—২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হওয়া আইনে বলা হয়েছে যে ন্যাটো থেকে বের হওয়ার আগে কংগ্রেসের অনুমতি বা সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে রাজি হতে হবে।

 

কিন্তু, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প নিজের ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। যেমন, ইরানে হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। ট্রাম্প তা নেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট অনুসারে, একজন রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।

সাবেক ওবামা প্রশাসনের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ইভো দালদার মনে করেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্প সব মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

মূলত ন্যাটোর কারণে এখন পর্যন্ত রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশ ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালানোর ‘সাহস’ দেখায়নি। রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন ন্যাটো সদস্য নয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ইউক্রেনের নিকোপলে রুশ ড্রোন হামলার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। ছবি: রয়টার্স (৪ এপ্রিল, ২০২৬)
ইউক্রেনের নিকোপলে রুশ ড্রোন হামলার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। ছবি: রয়টার্স (৪ এপ্রিল, ২০২৬)

 

শুধু তাই নয়, গত ৫ বছর ধরে ইউক্রেনে ন্যাটো দেশগুলো রুশ আগ্রাসন ঠেকিয়ে রেখেছে।

তবে ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণাতেও ন্যাটো জোটের প্রতি তার অনাগ্রহের কথা বহুবার জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ঢোকার এক বছর পর তিনি ন্যাটোকে একেবারে ‘গুরুত্বহীন’ জোট বলে মনে করছেন এবং এই জোট থেকে বের হওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন যে তিনি ন্যাটো নিয়ে ‘বিরক্ত’।

 

ন্যাটোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

 

ন্যাটোর ওয়েবসাইটে জোটটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে—অনেকে বলে থাকেন, মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য হুমকি থেকে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন সংক্ষেপে ন্যাটোর জন্ম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির ড্রেসডেন শহর এতোটাই ক্ষতির শিকার হয় যে ৭ বছর পরও এটি ধ্বংসস্তুপ হিসেবে থেকে যায়। ফাইল ছবি: এএফপি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির ড্রেসডেন শহর এতোটাই ক্ষতির শিকার হয় যে ৭ বছর পরও এটি ধ্বংসস্তুপ হিসেবে থেকে যায়। ফাইল ছবি: এএফপি (১৯৫২)

 

এটি আংশিক সত্য।

বাস্তবতা হচ্ছে—ন্যাটো গড়ে তোলা হয়েছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণবাদ ঠেকানোর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার সহায়তায় ইউরোপে উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান ঠেকানো ও ইউরোপের দেশগুলো মধ্যে রাজনৈতিক একতাকে সুদৃঢ় করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ইউরোপ এমন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল তা আজকের বাস্তবতায় কল্পনা করা যাবে না। সেই মহাযুদ্ধে অন্তত ৩ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ নিহত হন। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখ বেসামরিক মানুষ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি শহর জার্মান বিমান হামলায় রাতারাতি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। ফাইল ছবি: এএফপি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি শহর জার্মান বিমান হামলায় রাতারাতি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। ফাইল ছবি: এএফপি

 

এমন বাস্তবতায় ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় সোভিয়েত সীমানাঘেঁষা অনেক দেশের শাসনব্যবস্থায় কমিউনিস্ট প্রভাব প্রবল হতে দেখা যায়। যেমন, গোপনে সোভিয়েতের সাহায্য নিয়ে চেকোস্লোভাকিয়া কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৪৮ সালে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে।

ন্যাটোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের ওয়েবসাইটটিতে আরও বলা হয়—সৌভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র তখন ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সহায়তার হাত বাড়ায়।

সেসময় ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার প্রয়োজন দেখা দেয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সামরিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয়। এমন ঐক্যের ভাবনা নিয়ে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি গণতান্ত্রিক দেশ সামরিক সহায়তার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।

১৯৪৮ সালে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি দেশ গঠন করে ‘ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন’। তখন সোভিয়েত আগ্রাসন রোধ করতে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

১৯৪৮ সালের ১৬ মে নিউইয়র্ক টাইমসে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে প্রতিবেদন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
১৯৪৮ সালের ১৬ মে নিউইয়র্ক টাইমসে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে প্রতিবেদন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

 

দীর্ঘ আলোচনা-বিতর্কের পর ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সই করা হয়। শুরুতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ১২ দেশ ন্যাটোয় যোগ দেয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৩২।

চুক্তির বহুল আলোচিত আর্টিকেল ফাইভ বা পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘কোনো এক সদস্য বা একাধিক সদস্যের ওপর কোনো দেশ সামরিক হামলা চালালে তা সব দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে’।

মার্কিন জেনারেল আইজেনআওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন জেনারেল ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার। ছবি: আর্কাইভ

 

মার্কিন জেনারেল ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার ছিলেন এই সামরিক জোটের প্রথম সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ বা মিত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার।

 

ট্রাম্প কি ন্যাটো ছাড়তে পারেন?

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো জোট থেকে বের করে আনতে পারেন?—এমন শিরোনামের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে ট্রাম্প এককভাবে এই ৭৭ বছরের পুরোনো জোট থেকে বের হয়ে যাবেন কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছেন। যদিও, ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্ত মার্কিন আদালতে আটকে আছে।

১৯৪৯ সালে ন্যাটো জোট গঠনের সেই ঐতিহাসিক মুহুর্ত। ফাইল ছবি: এএফপি
১৯৪৯ সালে ন্যাটো জোট গঠনের সেই ঐতিহাসিক মুহুর্ত। ফাইল ছবি: এএফপি

 

এতে আরও বলা হয়, মার্কিন সংবিধান বলছে—রাষ্ট্রপতি সিনেটের সঙ্গে পরামর্শ করে ও এর মতামত নিয়ে চুক্তি করতে পারবেন। কিন্তু, চুক্তি থেকে সরে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে কিছু বলা নেই।

প্রতিবেদন অনুসারে—১৯৪৯ সালে গঠিত ন্যাটো চুক্তির ১৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, কোনো সদস্য যদি জোট থেকে বের হতে চায় তাহলে এক বছরের নোটিশ দিয়ে মার্কিন সরকারকে জানাতে হবে। তারপর ওয়াশিংটন ডিসি সেই সিদ্ধান্তের কথা বাকি সদস্য দেশের সরকারদের জানিয়ে দেবে।

প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়—২০২৩ সালে কংগ্রেসে পাসের পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সই করা আইনে বলা হয়েছে যে, ন্যাটো থেকে সরে আসার বিষয়ে একজন রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই ১০০ সদস্যের সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদন নিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

 

তবে ২০২০ সালে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বেশ কয়েকটি চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন। এর মধ্যে বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ৩৫-জাতির ‘ওপেন স্কাইস’ চুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু, প্রশ্ন—এখনো পর্যন্ত কোনো দেশ ন্যাটো না ছাড়লেও ন্যাটোর ‘গুরু’ ট্রাম্প নিজেই যদি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন তাহলে আসলে কী ঘটবে? তবে এর জবাব ভবিষ্যতের হাতেই তোলা থাকলো।