আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে ৪টি ব্রোঞ্জ জয় বাংলাদেশের
এ বছর লাটভিয়ায় ভার্চুয়ালি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে (আইইও) চারটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। বিজয়ীরা হলেন-মাস্টারমাইন্ডের শিক্ষার্থী ফারহান মাশরুর, প্লে পেনের শিক্ষার্থী সামরিন সারোয়ার এবং স্কলাস্টিকার শিক্ষার্থী প্রাচুর্য দাস ও মাশরুর তেহজিব।
আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (আইইও) হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বার্ষিক প্রতিযোগিতা, যা সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ফিন্যান্স সম্পর্কিত বিষয়ে তাদের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিযোগিতাটিতে একটি ফিন্যান্স বিষয়ক খেলা, একটি অর্থনীতি বিষয়ক পরীক্ষা ও একটি ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়। খেলায় এমন একটি চরিত্র থাকে যাকে শেয়ার, বন্ড ও সূচক কেনার সরঞ্জাম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার মূলধন ও আয় বৃদ্ধি করতে হবে।
মাসরুর বলেন, 'অর্থনীতির প্রশ্নগুলো মূলত দুটি বইয়ে শেখানো তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। বই দুটি হচ্ছে--কোরের অর্থনীতি এবং গ্রেগরি মানকিউয়ের প্রিন্সিপালস অব ইকোনোমিকস। আয়োজকরা ব্যষ্টিক অর্থনীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতাও পরীক্ষা করেছেন এবং বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে গাণিতিক দক্ষতা ও সাধারণ জ্ঞানও যাচাই করেছেন।'
সবশেষে, বিজনেস কেসটি ছিল একটি টিম ইভেন্ট যেখানে অংশগ্রহণকারীদের একটি ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের জন্য দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল এবং যুক্তিযুক্ত সমাধানগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল।
প্রাচুর্য বলেন, 'প্রতিযোগিতাটি লাটভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হয়, সেখানে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর অডিও, ভিডিও ও স্ক্রিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। বিজনেস কেসটি প্রেজেন্টেশনের জন্য আমাদের টিম ঢাকার ওয়েস্টিনে জড়ো হয়েছিল। জুম মিটিংয়ে প্রেজেন্টশনটি শেষ হয়, যেখানে অন্যান্য দেশের টিম লিডাররা আন্তর্জাতিক জুরি হিসেবে কাজ করেন।'
বাংলাদেশ ইকনোমিকস অলিম্পিয়াডের ফেসবুক পেজ থেকে প্রাথমিক নিবন্ধনের পর, অংশগ্রহণকারীরা প্রতিযোগ ডট কমে এমসিকিউ রাউন্ডে পরীক্ষা দেয়। সারা দেশের কয়েকশ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে থেকে শীর্ষ ৩০ জন থিওরি রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হন।
ন্যাশনাল ইকনোমিকস ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শীর্ষ ২৪ জন নির্বাচন হয়েছিলেন।
প্রাচুর্য বলেন, 'এরপর আমাদেরকে একটি চ্যালেঞ্জিং সিলেকশন পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল এমসিকিউ, ওপেন কোশ্চেনস ও একটি বিজনেস কেস, যা আমাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেককে আলাদাভাবে সমাধান করতে হয়েছিল।'
এই পরীক্ষায় সেরা পাঁচ প্রতিযোগীকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত করা হয়। একটি জুম ওয়েবিনারের মাধ্যমে সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এ অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটি আইইও'র ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
সামরিন বলেন, '৪০টিরও বেশি দেশের প্রায় ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু, আমাদের নিরলস শ্রম ও চেষ্টার জন্যে আমাদের ভালো ফলাফলের আশা ছিল।'