এমপির মধ্যস্থতায় মুক্ত হলেন পাবিপ্রবির উপাচার্য
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রোস্তম আলী প্রায় ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর মধ্যস্থতায় মুক্ত হয়েছেন।
আজ সকালে উপাচার্য মো. রোস্তম আলীর মেয়াদের শেষ সময়ে এসে শতাধিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের সভা পণ্ড হয়ে যায়। সভার শুরুতেই উপাচার্য তার ভাতিজিসহ শতাধিক পদে নিয়োগের কথা তুললে উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা আপত্তি জানান। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্যসহ রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যদের অবরুদ্ধ করেন।
পরে উপাচার্যের অনুরোধে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু বিকেলে ক্যাম্পাসে আসেন। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আবার রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভা আয়োজনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন তিনি। এর পরই উপাচার্য অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।
সংসদ সদস্য টুকু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, উপাচার্যসহ রিজেন্ট বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ সভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত জরুরি বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে সভার এজেন্ডা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
টুকু বলেন, নিয়োগ নিয়ে যেহেতু নানা অভিযোগ উঠছে তাই জরুরি সভায় নিয়োগের বিষয়টি না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, উপাচার্যের মেয়াদকালে এটাই ছিল রিজেন্ট বোর্ডের সর্বশেষ সভা। সভায় ৬০টির বেশি এজেন্ডা ছিল। কিন্তু উপাচার্য শুরুতেই তার ভাতিজিসহ শতাধিক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কথা তোলেন।
বাংলা বিভাগের সাবেক সভাপতি আব্দুল আলীম বলেন, 'ভাতিজির নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে উপাচার্য সভা ছেড়ে যেতে উদ্যত হন। তখন অন্য শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কারণ সভায় আলোচনার জন্য শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ অনেকগুলো এজেন্ডা ছিল।'