কলেজে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ সভাপতি-সহ সভাপতি, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রাব্বির পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই কলেজ শাখা কমিটির সভাপতি নিবিড় আহম্মেদের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে, কলেজ অধ্যক্ষ ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে সহ-সভাপতি রাব্বির বিরুদ্ধে।

আজ রোববার সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এই দুই ছাত্রলীগ নেতার মধ্যকার উত্তেজনা থামাতে পুলিশ ডাকেন অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদার।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আজ রাত সাড়ে ৮টায় রাব্বি ও নিবিড় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এস এম রফিকুল ইসলাম রাব্বি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ২৫০ টাকা নিচ্ছে। আমি তারই প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নিবিড় আহম্মেদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সে আমার পাঞ্জাবির কলার ছিঁড়ে ফেলে। সেই সঙ্গে ফাহিম মিয়াজী, রুমি, মুন্না, ওমর ফারুকসহ কয়েক জন মিলে আমাকে মারধর করে।'

মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নিবিড় আহম্মেদ বলেন, 'অফিস কক্ষের সামনে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি রাব্বিসহ পাঁচ-ছয় জন অজ্ঞাতনামা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তারা শিক্ষার্থীদের মারধর ও গালিগালাজ শুরু করে। খবর শুনে আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে রাব্বিসহ তার সঙ্গীরা আমাকে মারধর করতে উদ্যত হয়।'

রাব্বির পাঞ্জাবি ছেঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, 'রাব্বি নিজের জামা-কাপড় ছিঁড়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে আমাকে খুন করার হুমকি দেয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কলেজ অধ্যক্ষ ও আমাকে নিয়ে কটূক্তি করেছে এবং মিথ্যা হয়রানিমূলক কথা লিখেছে।'

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদার বলেন, 'কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফরম নিয়ে টানাহেঁচড়া করেছে। তারপর কলেজ গেটের বাইরে আওয়াজ শুনেছি, সেখানে তর্ক হয়েছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ডাকা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু পাঁচ দিন ভর্তি কার্যক্রম চলবে, স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ থাকবে।'

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'প্রসপেক্টাস, ডিজিটাল আইডি কার্ড, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার প্রিন্ট ফিসহ বিবিধ বিষয়ে ২৫০ টাকা রশিদ দেওয়া সাপেক্ষে নেওয়া হচ্ছে, যা বৈধ। ভুলবশত রশিদে সিল ও সই না থাকলে সেটি সংগ্রহ করবে শিক্ষার্থীরা। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে। এর জন্য প্রসপেক্টাস, ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড, আইডি কার্ড শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। এসব আগে সরবরাহ করতে হবে বলে আলাদা করে রশিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে।'

'এই ২৫০ টাকা অবৈধভাবে নেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ সেটি মিথ্যা। এখন কোনো ছাত্রলীগ নেতা যদি কলেজ চালাতে চায়, নিয়ম শেখাতে চায়, তাহলে সমস্যা। সে আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানতে চায়নি,' যোগ করেন তিনি।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. রাজীব খান বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধরের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তাদের মধ্যে তর্ক হয়েছে। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, 'কলেজের অধ্যক্ষ মোবাইলে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফরম টানাহেঁচড়া করা হয়েছে। তবে সেখানে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, এমনটা জেনেছি। দুপক্ষের অভিযোগ পেয়েছি, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'